নিম্নমুখী স্বর্ণের বাজার



মার্কিন ডলারের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ায় নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে স্বর্ণের বাজার। গত বুধবার পণ্যটির দাম কমেছে।
এপ্রিলে সরবরাহের চুক্তিতে স্বর্ণের দাম কমেছে দশমিক ১ শতাংশ। দিন শেষে পণ্যটির দাম আউন্সপ্রতি ১ দশমিক ৫০ ডলার কমে ১ হাজার ৩২৫ দশমিক ৬০ ডলারে স্থির হয়। আগের দিন পণ্যটির দাম দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছিল, যা ৬ মার্চের পর থেকে সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধির ঘটনা। ওই দিন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে রেক্স টিলারসনকে বরখাস্ত করার খবরে ডলারের অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে একদিনে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি প্রায় ৬ দশমিক ৩০ ডলার পর্যন্ত বেড়ে যায়।
গত বুধবার আইসিইতে ডলার সূচক অবস্থান দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৯ দশমিক ৭০ পয়েন্ট। তবে চলতি মাসে এ পর্যন্ত সূচকটি প্রায় ১ শতাংশ কমেছে।
বুলিয়ন ভল্টের গবেষণা বিভাগের প্রধান আদ্রিয়ান অ্যাশ জানান, ২০০৮ সালের ১৪ মার্চ লন্ডনে স্বর্ণের দাম প্রথমবারের মতো আউন্সপ্রতি ১ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। এ হিসাবে গত বুধবার স্বর্ণের দাম হাজার ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার এক দশক পূর্ণ হলো। ফ্যাক্টসেট ডাটা জানিয়েছে, ২০০৮ সালের ১৭ মার্চ প্রথমবারের মতো স্বর্ণের বাজারে এক হাজার সমাপনী দরের রেকর্ড করা হয়।
এফএক্সটিএমের বিশেষজ্ঞ লুকম্যান ওতুনোগা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংরক্ষণবাদী আচরণ ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের কারণে বাজার ঘিরে শঙ্কা বাড়ছে। এতে স্বর্ণ আবার ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরতে পারে। তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুদহার বাড়ানোর পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের দাম কমতে পারে। তবে বর্তমান অনিশ্চয়তায় স্বল্পমেয়াদে স্বর্ণ লাভবান হতে পারে।
ফরেক্সডটকমের ফাওয়াদ রাজাকজাদা বলেন, পুঁজিবাজারে আবার চাপ তৈরি হলে স্বর্ণের দাম বাড়তে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সংরক্ষণবাদী নীতির কারণে ডলারের বিনিময়মূল্য কমলে স্বর্ণের বাজার আরো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠবে। তিনি বলেন, আগামী সপ্তাহে ফেডারেল রিজার্ভের মূল্যস্ফীতি ও সুদহার বাড়ানো-সংক্রান্ত প্রাক্কলনের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে।
এদিকে মার্চে সরবরাহের চুক্তিতে রুপার দাম কমেছে দশমিক ৫ শতাংশ। দিন শেষে পণ্যটির দাম আউন্সপ্রতি ১৬ দশমিক ৫৩৭ ডলারে স্থির হয়। তবে মার্চে সরবরাহের চুক্তিতে তামার দাম দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। এদিন পণ্যটি পাউন্ডপ্রতি ৩ দশমিক ১৫৯ ডলারে লেনদেন হয়। এপ্রিলে সরবরাহের চুক্তিতে প্লাটিনামের দাম কমেছে দশমিক ৬ শতাংশ।