গত দশ বছরে মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় (জিএনআই) প্রায় দুইশ’ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সারাদেশে পল্লী এবং নগর এলাকায় সাধারণ জনগণের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে বিগত দশ বছরে জীবনযাত্রার মান ১৯৬ দশমিক ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০৬ সালে মাথাপিছু আয় ছিলো ৫৪৩ মার্কিন ডলার। দশ বছর পরে এসে ২০১৬ সালে মাথাপিছু আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬১০ মার্কিন ডলার।
জিএনআই এ বিস্ময়কর বৃদ্ধির তিনটি পূর্ব শর্তের মধ্যে একটি হলো বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) গ্রুপ থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। এ জন্য বাংলাদেশের মাথাপিছু জিএনআই হতে হবে ১,২৩০ মার্কিন ডলার অথবা তার ঊর্ধ্বে।
জিএনআই বৃদ্ধি দেশের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নে এবং সাধারণ জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
ঢাকায় বিশ্ব ব্যাংকের শীর্ষ অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ২০১০ সালে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে ২০১৬ সালে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশে নেমে এসেছে। তিনি সমষ্টিক অর্থনীতির সূচক স্থিতিশীল উল্লেখ করে জিএনআই এই বৃদ্ধির প্রবণতা ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকার ব্যপারে আশাবাদ প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশ ২০২৪ সালের মধ্যে এলডিসি থেকে বেড়িয়ে আসবে। তবে এলডিসি থেকে বেড়িয়ে আসার পর বাংলাদেশকে কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। বাংলাদেশকে এই চ্যালেঞ্জ মোবেলার প্রস্তুতি অর্থাৎ পরিকল্পনা এখন থেকেই নিতে হবে।
অর্থ মন্ত্রনালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে অতিরিক্ত সচিব মানিক চন্দ্র দে বলেন, ভিশন-২০২১সহ পরবর্তী উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অজর্নে দেশের অর্থনীতির জন্য এলডিসি থেকে বেড়িয়ে আসার সক্ষমতা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় অর্জন।
