এক বছর ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ধীরে ধীরে বাড়ছে। বর্তমানে জ্বালানি পণ্যটির দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলারের আশপাশে অবস্থান করছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী দিনগুলোয় জ্বালানি তেলের দাম আরো বাড়ার আশা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। তবে ভিন্ন কথা বলছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান।
প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আগামী দিনগুলোয় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে ৫০ ডলারে নেমে আসতে পারে।
বাড়তি সরবরাহ চাপে ২০১৪ সালের শেষ সময় থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দরপতনের সূত্রপাত। এ সময় প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে ছিল। দরপতনের ধারাবাহিকতায় তা ব্যারেলপ্রতি ৩০ ডলারের নিচে নেমে যায়। বৈশ্বিক জ্বালানি খাতের এ ধাক্কা সামলাতে উদ্যোগী হয় পণ্যটির রফতানিকারকদের জোট অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক)। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা ও সরবরাহে ভারসাম্য এনে দরপতনের লাগাম টানতে জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক উত্তোলন হ্রাসের চুক্তি করে ওপেক। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সম্মিলিত দৈনিক উত্তোলন ২০১৬ সালের শুরু পর্যায় থেকে ১৮ লাখ ব্যারেল কমিয়ে আনার ঘোষণা দেয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে জ্বালানি পণ্যটির বৈশ্বিক মজুদ পাঁচ বছরের গড়ের সমপর্যায়ে নেমে আসবে বলেও প্রত্যাশা করা হয়েছিল। বর্তমানে রাশিয়াসহ ওপেকবহির্ভূত কয়েকটি দেশ চুক্তির শর্ত মেনে চলছে। চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতার জের ধরে এর মেয়াদ দুই দফা বাড়ানো হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে ওপেক-নন ওপেক সহযোগিতা ও এ চুক্তির সুফল পেয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। উত্তোলন ও সরবরাহ কমায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। যদিও এ মূল্যবৃদ্ধি ওপেকের কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় হয়নি। তবুও আশায় বুক বেঁধেছিলেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এমন পরিস্থিতিতে জেপি মরগানের এ পর্যবেক্ষণ নতুন করে হতাশার জন্ম দিতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ধারা দ্রুত বদলে যেতে পারে। আগামী দিনগুলোয় জ্বালানি পণ্যটির দাম ব্যারেলপ্রতি ৫০ ডলারে নামতে পারে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের নতুন করে দাম কমার পেছনে ওপেকভুক্ত ও জোটবহির্ভূত শীর্ষ উত্তোলনকারী দেশগুলোর (বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র) ভিন্ন আচরণকে চিহ্নিত করেছে জেপি মরগান।
প্রতিষ্ঠানটির এক নোটে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে শেল (পাথুরে ভূমি থেকে উত্তোলন করা জ্বালানি তেল) উত্তোলন খাতের চাঙ্গাভাব ওপেকের লক্ষ্য অর্জনের পথে অন্তরায়। আগামী দিনগুলোয় ওপেকের সঙ্গে মার্কিন উত্তোলন খাতের এ প্রতিযোগিতা আরো প্রকট হতে পারে। এ প্রতিযোগিতা আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যটির চাহিদা ও সরবরাহে ভারসাম্য আনার চেষ্টা ব্যাহত করবে। এর জের ধরে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতা পাল্টে যাবে। এ কারণে পণ্যটির দাম ব্যারেলপ্রতি ৫০ ডলারে নেমে আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
এ বিষয়ে জেপি মরগানের তেল ও গ্যাসবিষয়ক গবেষণা শাখার প্রধান ক্রিশ্চিয়ান মালেক বলেন, চলতি বছর শেষে ওপেকের চুক্তির মেয়াদ আর বাড়ানো না হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়তে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শেল উত্তোলন খাতে প্রবৃদ্ধির লাগাম টানার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এমন পরিস্থিতিতে বছর শেষে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন ও সরবরাহ হঠাৎ করে বেড়ে যাবে। ফলে ভারসাম্য নষ্ট হয়ে দরপতনের ধারায় ফিরে যেতে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি তেল খাত।
