চীন থেকে আমদানি করা কোন কোন পণ্যে যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করতে যাচ্ছে, চলতি সপ্তাহেই তার একটি তালিকা প্রকাশ করবে ট্রাম্প প্রশাসন। মূলত বেইজিংয়ের প্রযুক্তি স্থানান্তর নীতির কারণেই দেশটিকে এ শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলে জানা গেছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন, বার্ষিক ৫ থেকে ৬ হাজার কোটি ডলার মূল্যমানের আমদানিকৃত পণ্য শুল্ক নিশানার তালিকাভুক্ত হবে। ধারণা করা হচ্ছে, এ পণ্যগুলোর বেশির ভাগই হবে ‘উচ্চ প্রযুক্তির’। গত ২২ মার্চ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক ঘোষণাপত্রে সই অনুযায়ী আগামী শুক্রবারের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ অফিসকে (ইউএসটিআর) এসব পণ্যের তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
ইউএসটিআর বলছে, চীনের স্থানীয় কোম্পানিগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের মেধাসম্পদ স্থানান্তরে ‘অর্থনীতি-বহির্ভূত’ নীতি পরিবর্তনে চীনকে বাধ্য করতেই এ শুল্ক আরোপ করা হবে। সংস্থাটি দেশটির বাণিজ্য আইনের ‘৩০১ ধারায়’ তদন্ত করে দেখেছে, যৌথ উদ্যোগের শর্ত, অন্যায্য লাইসেন্স নীতিমালার মাধ্যমে কৌশলে যুক্তরাষ্ট্রের মেধাসম্পদ দাবি করেছে চীন।
শুল্ক আরোপের বিষয়টি যাচাই করে ইউএসটিআরের পক্ষ থেকে আরো বলা হয়েছে, ‘মেড ইন চায়না ২০২৫ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্নভাবে বিদেশী প্রযুক্তি অধিগ্রহণকে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। কারণ উন্নয়নের জন্য এ বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে তারা।’
যদিও চীনের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এ দাবি অস্বীকার করে বলা হয়েছে, তাদের আইনেই এ প্রযুক্তি স্থানান্তরের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক আরোপ করলে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে চীনও এ পথে হাঁটবে বলে জানিয়ে দিয়েছে। চীনের সম্ভাব্য নিশানার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন, উড়োজাহাজের মতো পণ্যগুলো রয়েছে। এ অবস্থায় আশঙ্কা করা হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির দেশ পরস্পরের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে এবং তাতে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে।
