মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন ও গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক অবরোধের দাবি জোরদার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা গহওর রিজভী গতকাল মঙ্গলবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা–বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ঘোষণাপত্রে ওই দাবি তুলেছেন।
একই দিনে কানাডার পক্ষ থেকে মিয়ানমারের ওপর অবরোধ আরোপের দাবি করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক চাপের মুখে মিয়ানমারে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদলকে যাওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে মিয়ানমার সরকার। গত সোমবার নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ও জাতিসংঘে পেরুর দূত গুস্তাভো মেজা-কুয়াদ্রা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তবে ওই প্রতিনিধিদলকে রাখাইন রাজ্যে যেতে দেওয়া হবে কি না, তা এখনো পরিষ্কার করা হয়নি। ওই প্রতিনিধিদল মিয়ানমার সফরের পাশাপাশি বাংলাদেশ সফরেও আসবে।
এদিকে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করতে আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশ সফরে আসছেন মিয়ানমারের একজন মন্ত্রী। গত আগস্টে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর দেশটির কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এ ধরনের সফরে বাংলাদেশে আসছেন। এ ছাড়া কক্সবাজারে শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রোহিঙ্গাবিষয়ক মিয়ানমার সরকারের একটি আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা পরিষদ।
মিয়ানমার বিষয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর বিশেষ দূত গতকাল তাঁর সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন দিয়েছেন। এতে তিনি বলেছেন, কানাডার উচিত রোহিঙ্গাদের কানাডায় আশ্রয় দেওয়া। একই সঙ্গে অন্যান্য দেশও যাতে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয় সে জন্য তাদের চাপ দিতে উদ্যোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক রেডিও ফ্রি এশিয়া জানায়, মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক মন্ত্রী উইন মিয়াত আই ১১ এপ্রিল বাংলাদেশ সফরে আসবেন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক বিভাগের মহাপরিচালক তারেক মুহাম্মদ বলেছেন, উইন মিয়াত আইয়ের তিন দিনের এই সফরের দ্বিতীয় দিন, ১২ এপ্রিল তাঁর রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের কথা রয়েছে।
গত ২৫ অগাস্ট মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা। রাখাইনে তাদের প্রত্যাবাসন নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছে বাংলাদেশ।
প্রথম দফায় প্রত্যাবাসনের জন্য আট হাজার ৩২ জনের একটি তালিকাও দেওয়া হয়েছিল মিয়ানমারকে। ওই তালিকা যাচাই-বাছাই করে ৩৭৪ জনকে রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে চিহ্নিত করার কথা জানিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ বলেছে, যে কোনো সময় তাদের ফিরিয়ে নিতে প্রস্তুত তারা।
এই আলোচনার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিবার মিয়ানমার সফর করেছেন। অপরদিকে মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট জেনারেল খ শোয়েসহ বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশে এলেও তাদের কেউ এখনও রোহিঙ্গা শিবিরে যাননি।
আরও পড়ুন; রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে সাধ্যমত চেষ্টা করবে তুরস্ক
রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সহযোগিতা করবে চীন
রোহিঙ্গা সংকট: সু চির সঙ্গে ট্রুডোর বৈঠক
রোহিঙ্গা সংকট: বছরে লাগবে সাত হাজার কোটি টাকা
রোহিঙ্গাদের ফেরাতে চারটি শর্ত দিয়েছে মিয়ানমার
সোমবার থেকে ফের রোহিঙ্গাদের খাদ্য সহায়তা শুরু
রোহিঙ্গা সংকট: মিয়ানমারে ফিরতে চায় ৭৮% রোহিঙ্গা
রোহিঙ্গা সংকট: হত্যা করা হয়েছে ৬,৭০০ রোহিঙ্গাকে
