বিশ্বজুড়ে গতকাল শেয়ারবাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। উত্তর কোরিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিম কি গুয়ান বলেন, পিয়ংইয়ং ‘ট্রাম্প ফর্মুলায়’ পারমাণবিক কর্মসূচি-বিষয়ক দ্বন্দ্ব নিরসনের আশা করছে। তিনি আরো বলেন, উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিবাদ মেটাতে উন্মুক্ত।
ব্রিটেনের এফটিএসই, ফ্রান্সের সিএসি ও জার্মানির ড্যাক্স দশমিক ৫ থেকে দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ায় ইউরোপের শেয়ারগুলো উত্থানের আশা করা হচ্ছে।
জাপানের বাইরের এশিয়া প্যাসিফিকের বৃহত্তম ইনডেক্স এমএসসিআইতে ১ শতাংশ বৃদ্ধি দেখা গেছে, অন্যদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি আগের ক্ষতি অনেকটা পুষিয়ে নিয়েছে। আগের দিনের দশমিক ৯ শতাংশ পতন শেষমেষ দশমিক ২ শতাংশে ঠেকেছে। জাপানের নিক্কেই সূচক দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সিঙ্গাপুরের বিএনওয়াই মেলন ইনভেস্টমেন্ট ম্যানেজমেন্টের জ্যেষ্ঠ সার্বভৌম বিশ্লেষক অনিন্দ্য মিত্র বলেন, এখন পর্যন্ত উত্তর কোরীয়রা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা শুরু করেনি। এটি বিস্মিত হওয়ার মতো বিষয় এবং এটিকে আমি ভবিষ্যতের শান্তি আলোচনার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছি।
ওয়াল স্ট্রিটে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ বৃহস্পতিবার দশমিক ২ শতাংশ দরপতনের মাধ্যমে শেষ হয়। তবে এর আগে এ সূচকের দশমিক ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত পতন হয়েছিল।
তবে পিয়ংইয়ংয়ের জবাবের আগেও ওয়াল স্ট্রিটের সূচকে বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক কোনো ভীতির ইঙ্গিত দেখা যায়নি। বিশ্লেষকরা
বলছেন, বিনিয়োগকারীদের এ শান্ত থাকা ইঙ্গিত দিচ্ছে, তারা ট্রাম্পের নাটকীয় সমঝোতার কৌশলের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছেন। ট্রাম্প কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানোর আগে যে রকম নাটকীয় সিদ্ধান্ত নেন, কিমও একই রকম অবস্থান গ্রহণ করছেন।
সুমিতমো মিত্সুই অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের জ্যেষ্ঠ কৌশলী মাসাহিরো ইচিকাওয়া বলেন, ‘আমার সন্দেহ, তারা পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হতে পারবেন না। তবে দুই পক্ষের মন্তব্য দেখে মনে হচ্ছে, দুজনের কেউই ভবিষ্যতে একটি বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছেন না। ফলে আমি আশা করি, শিগগিরই সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে না।’
যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বৃহস্পতিবার ২ দশমিক ৯৫৫ শতাংশে নেমে এলেও শুক্রবার এশিয়ায় তা ২ দশমিক ৯৯২ শতাংশে উন্নীত হয়। তবে গত সপ্তাহে সাত বছরের মধ্যে এ হার ৩ দশমিক ১২৮ শতাংশে পৌঁছেছিল।
