আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের খাদ্যশস্য (চাল ও গম) আমদানি। যেখানে গত অর্থবছরে খাদ্যশস্য (চাল ও গম) আমদানি করা হয়েছিল ৫৮ লাখ ২৩ হাজার টন, সেখানে চলতি (২০১৭-১৮) অর্থবছরের এখন পর্যন্ত তা কোটি টনে পৌঁছে গেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগে উৎপাদন কম হওয়ার পাশাপাশি বিনা শুল্কে চাল আমদানির সুযোগ দেয়ার কারণে আমদানি বেড়েছে।
খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, চলতি অর্থবছরের ৩১ মে পর্যন্ত খাদ্যশস্য আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছে ১ কোটি ৮ লাখ ৪২ হাজার টনের। ১২ জুন পর্যন্ত খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে ৯৯ লাখ ১২ হাজার টন। যদিও চলতি সপ্তাহে তা এক কোটি টন ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে চাল আমদানি হয়েছে ৪০ লাখ ৫৯ হাজার টন, যা গত অর্থবছরের পুরো সময়ে ছিল মাত্র ১ লাখ ৩৩ হাজার টন।
অন্যদিকে গম আমদানি হয়েছে ৫৮ লাখ ৫২ হাজার টন। গত অর্থবছরের পুরো সময়ে খাদ্যশস্যটি আমদানি হয়েছিল ৫৬ লাখ ৯০ হাজার টন। অর্থাৎ গম আমদানি ১ লাখ ৬১ হাজার ৭২ টন বাড়লেও চাল আমদানি বেড়েছে ৩৯ লাখ ২৬ হাজার টন।
গমের আমদানি কৃষকের খুব বেশি ক্ষতি না করলেও চাল আমদানি বৃদ্ধি কৃষকের ক্ষতির কারণ হবে বলে মনে করছেন সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক। তিনি বলেন, শুল্ক ছাড়ের কারণে বাছ-বিচারহীনভাবে চাল আমদানি করা হয়েছে। তা না হলে চালের চাহিদা ও উৎপাদনের তথ্যে গরমিল আছে। সাময়িক অসুবিধায় শুল্ক কমানো হলেও এটি যখন বাড়ানোর প্রয়োজন, তখন তা করা হয়নি। এতে বোরো মৌসুমে মিলারদের কাছে বাড়তি চাল থাকায় কৃষকের কাছ থেকে তারা ধান কেনায় আগ্রহী হয়নি।
এদিকে, আমদানির মাধ্যমে দেশের মানুষের খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। গত কয়েক বছর সরকারিভাবে চাল আমদানি না হলেও চলতি অর্থবছরে তা কয়েক গুণ বেড়েছে। চলতি অর্থবছরে সরকারিভাবে পণ্যটি আমদানি হয়েছে ১১ লাখ ১৫ হাজার টন। এছাড়া গম আমদানি হয়েছে ৪ লাখ ৭৬ হাজার টন। সরকারিভাবে মোট খাদ্যশস্য আমদানি ১৫ লাখ ৯২ হাজার টন দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে বেসরকারিভাবে চাল আমদানি হয়েছে ২৯ লাখ ৪৩ হাজার টন। এ প্রক্রিয়ায় গম আমদানি হয়েছে ৫৩ লাখ ৭৫ হাজার টন। অর্থাৎ বেসরকারিভাবে মোট খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে ৮৩ লাখ ১৯ হাজার টন। গত অর্থবছরে বেসরকারিভাবে চাল আমদানি হয়েছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার টন।
উল্লেখ্য, এর আগে মাত্র দুটি অর্থবছরে ৫০ লাখ টনের ওপর খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে দেশে। এর মধ্যে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছিল ৫২ লাখ ৭৪ হাজার টন এবং ২০১০-১১ অর্থবছরে ৫৩ লাখ ১৩ হাজার টন।
