ঘর থাকছে ঠাণ্ডা; বাড়ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা



প্রতিনিয়ত বাড়ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা। আর এজন্য আমরা সাহায্য নিচ্ছি শীতাতপ যন্ত্রের। কিন্তু গবেষকগণ বলছেন এই যন্ত্রগুলো আমাদের ঘর ঠাণ্ডা করলেও বাড়াচ্ছে বৈশ্বিক তাপমাত্রা।
বর্তমানে য়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম বেশিরভাগক্ষেত্রেই দালানের ছাদে থাকে এতে কোনও আশ্চর্যের বিষয় নেই। তবে এতে বিদ্যুতের যে চাহিদা রয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি বা আইইএ বলছে যা ২০৫০ সাল নাগাদ তিনগুণে পৌঁছুবে।
মানে এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাপানে মিলিতভাবে যে পরিমাণ বিদ্যুতের ব্যবহার হয় ২০৫০ সালে গিয়ে কেবল এয়ার কন্ডিশনিং-এর কাজেই সেই পরিমাণ বিদ্যুতের দরকার হবে।
ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি বা আইইএ-এর ব্রেইন মাদারওয়ে বলছেন যে, এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেমের চাহিদা বাড়ছে কেবল গরম বাড়ছে বলে নয়।
মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ার কারণেও এটি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারত, চীন এবং ইন্দোনেশিয়া তার প্রমাণ।
ভারতের একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে যে, অতিরিক্ত এয়ার কন্ডিশনারের ব্যবহারের ফলে দেশটির উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়িয়ে দিয়েছে।
নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন আর সেই সাথে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ব্যবহার হ্রাস করেই উষ্ণায়নের হার কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জলবায়ু গবেষকরা বলছেন, ২০০১ সাল থেকে পরবর্তী সতের বছরের মধ্যে ২০১৬ ছিল সবচেয়ে উষ্ণতম সময় আর এতে প্রমাণ হয় যে পৃথিবী ক্রমশই আরো উষ্ণ উঠছে।
এসব কারণেই বিজ্ঞানীরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের জন্যে আরো কার্যকর পন্থা খুঁজে বের করতে কাজ করে যাচ্ছেন। এই যেমন স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গবেষকরা ‘ন্যানো-ফোটোনিকস’ নামের একটি উপাদান দিয়ে নতুন এক ধরনের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন।
এই উপাদানটি খুব পাতলা এবং তীব্র প্রতিফলনশীল। যা কিনা সরাসরি সূর্যের আলোতেও তাপ বিকিরণ করতে পারে।
পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, এই উপাদানের তৈরি প্যানেলের নিচ দিয়ে কোনও পাইপের মাধ্যমে যদি ঠাণ্ডা পানি প্রবাহিত করা যায়, তবে সেই পানির তাপমাত্রা বাইরের প্রকৃতির তুলনায় অন্তত কয়েক ডিগ্রী পর্যন্ত শীতল থাকে। আর এটি কোনও ধরনের বিদ্যুতের ব্যবহার ছাড়াই সম্ভব।
এখন এই ‘স্কাইকুল সিস্টেম’টিকে বাণিজ্যিকভাবে প্রসারের কথা ভাবছেন গবেষকরা।
ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ফ্লোরিডার সৌর শক্তি কেন্দ্রের ড্যানি পার্কার এবং তার সহযোগীরা মিলে এয়ার কন্ডিশনিং এবং হিটিং সিস্টেম নিয়ে গবেষণা করছেন বেশ কিছুদিন।এই পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি বলেন, “ভবিষ্যতের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এটি বর্তমানের তুলনায় অন্তত দ্বিগুণ সুবিধা দেবে।”
এ মুহূর্তে বাজারে উন্নত প্রযুক্তির অনেক কার্যকর শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রই রয়েছে যেগুলো ইনভার্টারস নামে একধরনের সহজ একটি যন্ত্র দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে।
যা বাতাসের স্বাভাবিক তাপমাত্রা অনুধাবন করতে পারে সেন্সরের মাধ্যমে এবং সে অনুযায়ী তা নিয়ন্ত্রিত হয়। এটি ক্রমাগত কিন্তু খুব অল্প বিদ্যুৎ খরচে চলতে থাকে।