ভুয়া সংবাদের বিস্তার রোধে প্রতিষ্ঠানটি গত মে ও জুনে সাত কোটির বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিয়েছে। সে হিসাবে টুইটার প্রতিদিন গড়ে ১০ লাখের বেশি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে।
ভুয়া সংবাদ ছড়ানো নিয়ে টুইটারসহ অন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ এসব প্রতিষ্ঠানকে ভুয়া সংবাদের বিস্তার ঠেকাতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে আসছে। এরই মধ্যে কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মার্কিন আইনপ্রণেতা ও আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার তদন্তের মুখে পড়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করতে রাশিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করেছে। এ তালিকায় টুইটারের নাম রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাপের মুখে পড়েছে টুইটার। এ-সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত মার্কিন সিনেটে হাজির করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে ভুয়া ও সন্দেহজনক অ্যাকাউন্ট বন্ধে অভিযান শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ঘটনায় মার্কিন কংগ্রেস টুইটারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠানটি যেসব পরিবর্তন এনেছে, তার মূলে রয়েছে মার্কিন কংগ্রেসের ক্রমবর্ধমান চাপ।
ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, মে ও জুনের মতো চলতি মাসেও মাইক্রোব্লগিং সাইটটি ভুয়া অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখবে। ফলে এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকছে। এ সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি ভুয়া অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যেতে চায়। তাদের লক্ষ্য— টুইটার প্লাটফর্ম থেকে সব ভুয়া অ্যাকাউন্ট সরিয়ে দেয়া।
দুই মাসে সাত কোটির বেশি টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়ার খবরটি নিয়ে অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। এ দলে রয়েছেন ওয়েডবুশ সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক মাইকেল প্যাচার। তিনি বলেন, টুইটারের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ৩৩ কোটি ৬০ লাখ। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি সাত কোটি অ্যাকাউন্ট বন্ধ করেছে— এটা সত্যিই বিশ্বাস করা কঠিন। তার মতে, বন্ধ করে দেয়া এসব অ্যাকাউন্টের বড় অংশই সচল ছিল না। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির ওপর সামান্য নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, টুইটার এর আগে ভুয়া অ্যাকাউন্ট বন্ধের অংশ হিসেবে নিজেই ভুয়া অ্যাকাউন্ট কেনার প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। প্রকল্পটির নাম ছিল ‘অপারেশন মেগাফোন।’ ভুয়া অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ভুয়া সংবাদ ছড়ানো ঠেকাতে এ প্রকল্প নেয়া হয়।
থমসন রয়টার্স বলছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে টুইটারের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ৩ শতাংশ বেড়ে ৩৩ কোটি ৭০ লাখে পৌঁছানোর প্রত্যাশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্যমতে, আক্রমণাত্মকভাবে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করায় চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে টুইটারের মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে টুইটারের কেউ মন্তব্য করতে রাজি হননি।
চলতি বছরের শুরুর দিকে এক গবেষণায় বলা হয়, জরুরি মুহূর্ত বা বিপর্যয়ের সময় ৮৬-৯১ শতাংশ টুইটার ব্যবহারকারী ভুয়া সংবাদ ছড়ান। এ ধরনের সংবাদ ছড়ানোর ক্ষেত্রে তারা রিটুইট করেন কিংবা আসল পোস্টে লাইক দেন। যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে এক কনসার্টে বন্দকধারীর হামলার পর গুগল, ফেসবুক ও টুইটারে ভুয়া সংবাদ ছড়িতে পড়তে দেখা গেছে।
প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা ভঙ্গ হচ্ছে কিনা, তা যাচাই করতে টুইটার প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেছে। এ বিষয়ে টুইটারের ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেল হার্ভে বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত কনটেন্ট শনাক্তে তারা প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। এর মাধ্যমে তারা টুইটারকে নিরাপদ প্লাটফর্ম করতে চাইছেন।
