যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দুই ঘণ্টার মুখোমুখি বৈঠক শেষে একে ‘চমৎকার সূচনা’ বলেছেন।
গতকাল ফিনল্যান্ডের হেলসিঙ্কিতে সোমবার ট্রাম্প-পুতিনের মধ্যে ঐতিহাসিক ওই শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ভোজনের শুরুতে শীর্ষ কর্মকর্তা পরিবেষ্টিত একটি কনফারেন্স টেবিলে সাংবাদিকদের সামনে ট্রাম্প ওই মন্তব্য করেন।
ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি একটি চমৎকার সূচনা; প্রত্যেকের জন্যই অত্যন্ত ভালো সূচনা।’ এই বৈঠকে কেবলমাত্র দুই নেতার দোভাষীরাই উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের শুরুতেই দুই নেতা করমর্দন করেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা দুই দেশ। গত কয়েক বছর ধরে খোলামেলা একসঙ্গে ভালো করে বসা হয়নি। আমি আশা করি, জটিলতা দূর হবে, অসাধারণ সম্পর্ক তৈরি হবে।’ রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের ঘাটতির জন্য তাঁর পূর্বসূরিদের ‘মূর্খতা’কে দায়ী করে নিন্দা জানিয়েছেন ট্রাম্প।
বৈঠক শুরুর আগে পুতিনের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাতেই সফলভাবে বিশ্বকাপ ফুটবল আয়োজনের জন্য তাকে অভিনন্দন জানান ট্রাম্প। এটি সেরা আয়োজনগুলোর অন্যতম ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এরপর ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে পুতিনের পাশে বসে ঊষ্ণ বক্তব্য দিয়ে বৈঠক শুরু করেন ট্রাম্প। আর তখনই রাশিয়ার সঙ্গে ভাল সম্পর্ক গড়ার আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, অনেক দিন থেকেই তিনি দু’দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে চাইছেন।
অন্যদিকে পুতিন বলেন, “বিশিষ্ট প্রেসিডেন্ট, ফিনল্যান্ডের হেলসিংকিতে আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পেরে আমি আনন্দিত। যদিও আমাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ আছে…আমরা ফোনে কথা বলেছিএবং কয়েকটি আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে আমাদের বেশ কয়েকবার দেখা হয়েছে। তবে অবশ্যই নিজেদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত কথা বলার এবং বিশ্বের সমস্যাপূর্ণ অনেকগুলো এলাকা নিয়ে আলোচনার এটাই সময়।”
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে মস্কো ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নেয়। এরপর ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের পক্ষে জয়লাভে ক্রেমলিনের সহায়তার অভিযোগ ওঠে। এসব বিষয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার সম্পর্কে চিড় ধরে।
