শুভ জন্মদিন ‘তামিম ইকবাল খান’


paperslife

দিনটা খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল বাংলাদেশের জন্য। এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচ। শুরুটা ভালো করতেই হবে। কিন্তু বিধি বাম। শুরুতেই তামিমের ইনজুরি। আঙুলে বল লাগায় মাঠের বাইরে। সাকিবের শূন্য রানে বিদায়। যেখানে দাপট দেখিয়ে খেলা দরকার ছিল সেখানে শুরুতেই কোনঠাসা।

মুশফিকের ম্যাচ ধরার দিনে শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট মুস্তাফিজ। নবম উইকেট পতনেই ধরা হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ শেষ, কেননা হাতে মস্তবড় ব্যান্ডেজ নিয়ে তামিম যে কিছুতেই মাঠে নামতে পারবে না। শ্রীলঙ্কার খেলোয়াড়রা তখন উদযাপনে ব্যস্ত। ঠিক তখনই সবাইকে ভুল প্রমাণ করে মাঠে নামলেন তিনি। খেললেন এক বল। মহামূল্যবান একটি বল। একহাতে ব্যাট করে গড়লেন ইতিহাস। হার না মানা মানসিকতার সেই তামিম ইকবালের আজ জন্মদিন।

বলা হয়ে থাকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা ব্যাটসম্যান। এবং কথাটা কতটা যৌক্তিক তার প্রমাণ মেলে পরিসংখ্যানে। সব ধরনের ফরমেটে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তিনি। ব্যাটের যুদ্ধে এগিয়ে যান। কখনো কখনো বোলারদের শাসন করেন নিজের রাজত্বে।

২০০৭ বিশ্বকাপে যখন প্রথম আবির্ভাব হয় এই তরুণের, ঠিক তখনই জহির খানের বলে ডান্সিং ডাউন দ্যা উইকেটে এসে উড়িয়ে মেরেই জানান দেন নিজের সামর্থ্যের। তিনি পারেন সব কিছু উজাড় করে দিয়ে খেলতে। মাঝে অনেকটা সময় ছিলেন টানাপোড়েনে। ফর্মহীন তামিম ইকবালকে মনে করা হতো বাংলাদেশের বোঝা।

অনেক সমালোচনা, উপহাস পিছনে ফেলে আজকের তামিম ছাড়িয়ে যান নিজেকে। ২০১৫ বিশ্বকাপের পর থেকে অন্য এক তামিম যেন মাঠের লড়াইয়ে নিজেকে সামিল করেন। যেই তামিম ভয় পায় না, হার মানে না। নতুনের লড়াইয়ে বিজয়ী ববেশে ফিরতেই যার পছন্দ।

১৯৮৯ সালের ২০শে মার্চ পৃথিবীতে এসেছেন ব্যাটিংয়ে লাল-সবুজের ক্রিকেটের এই স্বপ্নসারথী। চট্টগ্রামের কাজীর দেউরির খান পরিবারের সন্তান তামিমের বাবা প্রয়াত ইকবাল খান। চাচা বাংলাদেশ ক্রিকেটের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান। বড় ভাই নাফিস ইকবালও ক্রিকেটার। মানে রক্তেই মিশে আছে ক্রিকেট।

বাবার স্বপ্ন ছিলো ছেলে দুজনই ক্রিকেটার হোক। এক ছেলে ক্রিকেটকে নিয়ে গিয়েছিলেন অনেক দূর, কিন্ত তার আগেই ইনজুরিতে নিভে যায় ছেলের ক্যারিয়ার। অপরজনের বয়স তখন মাত্র আঠারো। বড় ভাই যেখানে ক্যারিয়ার শেষ করে গেলো, সেখান থেকেই পথ শুরু হল তার। নবাগত খেলোয়াড়, অভিজ্ঞতা নেই বলে তাকে নিয়ে যথেষ্ট নাটক শুরু করে প্রিমিয়ার লিগের মালিকেরা। ছেলেটি তা দেখতে লাগল তাকিয়ে তাকিয়ে। চাচা আকরাম খান তো সবই দেখছিলেন। ছেলেটির কাঁধের উপর রেখে দিলেন নিজের হাত, নিজেদের দলেই রেখে দিলেন তাকে।

এরপর বলতে বলতে তিন মাস চলে যায়। জাতীয় দলে সুযোগ ডাক এসে পড়ে ছেলেটির। সেখান থেকেই পথ শুরু, আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।

তামিম তো ছাড়িয়ে গেছেন তাদের সবাইকে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের হয়ে সব ফরমেটে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এই ওপেনার। দেশের হয়ে ৫৮টি টেস্টে ৪৩২৭ এবং ১৮৯ ওয়ানডেতে ৬৪৬০ হাজার রান করেন তামিম। টি-টুয়েন্টিতে তিনি ১০০০ রান করেছেন প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে। এখন ৭৫টি টি-টুয়েন্টিতে তার মোট রান ১৬১৩।

তিন ফরমেটে সেঞ্চুরি করা একমাত্র বাংলাদেশি খেলোয়াড় তিনি। তার মোট সেঞ্চুরি ২১টি (টেস্টে ৯, ওয়ানডেতে ১১, টি-টুয়েন্টিতে ১)।

২০০৭ সালের বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে তার ৫৩ বলে ৫১ রানের ঝড়ো ইনিংসটিতে সেদিন ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে টাইগারদের জয়ে দারুণ ভূমিকা রেখেছিলেন তামিম ইকবাল। ২০০৯ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিনি প্রথম টেস্ট শতক করেন। একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে প্রথম শতক করেন আয়ারল্যান্ড দলের বিপক্ষে। এছাড়া লর্ডসে ঘোষণা নিয়ে সেঞ্চুরি করে নিজেকে আলোচনায় আনেন এই ক্রিকেট শিল্পী।

সামনে বিশ্বকাপ। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে তাই তামিমের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। তামিম ইকবাল জ্বলে উঠতে পারলেই বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল। বাংলাদেশের পঞ্চপান্ডবের এই ক্রিকেটারের জন্মদিনে তাই পেপারস লাইফ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাণ ঢালা শুভেচ্ছা।

শুভ জন্মদিন তামিম ইকবাল…