পদত্যাগের ঘোষণা থেরেসা মে’র


theresa may #paperslife

ব্রেক্সিট চুক্তি ইস্যুতে অবশেষে পদত্যাগে রাজি হয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। বুধবার নিজ দলের সংসদ সদস্যদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে মে এ ঘোষণা দেন।

চুক্তি পাশ হলে ভবিষ্যতে ইইউ’র সাথে সমঝোতায় তিনি থাকবেন না বলে জানিয়েছেন। তবে কবে নাগাদ তিনি পদত্যাগ করবেন সেই সময় সম্পর্কে এখনো কিছু জানাননি।

যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট ব্রেক্সিটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ায় উদ্বেগে পড়ে যান ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের  ব্রেক্সিটপন্থীরা। (ইইউ) থেকে সরে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল তাদের। তবে সে কারণে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে’র সম্পাদিত ব্রেক্সিট চুক্তিতে তারা সমর্থন দিচ্ছেন।

এই সমর্থনের বদলে তারা প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে থেরেসা মে’র পদত্যাগ দাবি করেন। ইইউ’র সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ব্রেক্সিটপন্থী কোনো প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে চান তারা।

সোমবার এক প্রস্তাবের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্ট সংসদীয় কার্যবিধির নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেয়। এরপর থেকে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দলের কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী আইনপ্রণেতাদের সংগঠন ইউরোপিয়ান রিসার্চ নেতারা নড়েচড়ে বসেন।

ইআরজি’র প্রধান জ্যাকব রিচ মগ বলেন, তিনি এতোদিন প্রধানমন্ত্রীর সম্পাদিত বাজে চুক্তির চাইতে চুক্তি ছাড়াই বিচ্ছেদের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু এখন পার্লামেন্ট যেসব বিকল্পের কথা বলছে সেগুলো ওই চুক্তির চাইতেও বাজে। এছাড়া পার্লামেন্ট চুক্তিহীন বিচ্ছেদের সুযোগ বন্ধ করে দিচ্ছে।

দলের আইনপ্রণেতারা সমর্থন দিলেই যে কোনো চুক্তি পাশ হয়। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের কট্টর ব্রেক্সিটপন্থী আইনপ্রণেতাদের বিরোধিতার কারণে ব্রেক্সিট চুক্তি পাশে দুই দফা ব্যর্থ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের শরিক দল ডিইউপিও চুক্তির বিরোধিতায় সরব ছিল।

বুধবার সংসদের কার্যবিধির নিয়ন্ত্রনের সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন সর্বদলীয় আইনপ্রণেতারা। এদিন ব্রেক্সিট বিষয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠের সমর্থন যাচাইয়ে ১৬টি বিকল্প প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। এসবের মধ্য থেকে স্পিকারের বাছাই করা ৬টি প্রস্তাবের ওপর গতকাল সন্ধ্যায় ভোটাভুটির কথা। এসব ভোটে চূড়ান্ত কোনো ফল না মিললে আগামী সোমবার আবার একই ভোটাভুটির আয়োজন করবে পার্লামেন্ট।

এছাড়া,পার্লামেন্টে ভোটাভুটির আগেই নিজ দলের সাংসদদের নিয়ে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।

পর্যাপ্ত সমর্থন নিশ্চিত করা গেলে বৃহস্পতিবার (আজ) অথবা শুক্রবার ব্রেক্সিটচুক্তি নিয়ে তৃতীয় দফা ভোটাভুটির আয়োজন হতে পারে বলে হাউস অব কমন্সের লিডার অ্যান্ড্রিয়া লিডসম জানান। ব্রেক্সিটপন্থী এই নেতা বলেন, ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আপাতত বিচ্ছেদ নিশ্চিত করা অতি গুরুত্বপূর্ণ।