মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রথম এনিমেশন মুভি : সারভাইভিং ৭১


paperslife

ওয়াহিদ ইবনে রেজা’র নাম হয়ত আপনি শুনে থাকবেন। কিংবা নাও শুনে থাকতে পারেন। তিনি একজন বাঙালি, যার অসাধারণ মেধায় সমৃদ্ধ হয় হলিউড।

ক্যাপ্টেন আমেরিকা সিভিল ওয়ার, ব্যাটম্যান ভার্সেস সুপারম্যান, ব্ল্যাক প্যান্থার, এভেঞ্জার্স ইনফিনিটি ওয়ার, গার্ডিয়ান অফ দ্যা গ্যালাক্সি- ভলিউম টু – ইত্যাদি অসংখ্য মুভিতে কাজ করেছেন এই ব্যক্তিত্ব। তিনি বর্তমানে বিশ্বখ্যাত সনি পিকচার্সে তিনি কাজ করেন। সনি পিকচার্সে থাকার আগে তিনি কর্মরত ছিলেন মেথড স্টুডিওতে। ডক্টর স্ট্রেঞ্জ, গার্ডিয়ানস টু এই দুটি অস্কার নমিনেটেড চলচ্চিত্রের পেছনে কাজ করেছেন তিনি।

একজন বাঙালি, বাংলাদেশি হিসেবে তার অনেক দিনের ইচ্ছা নিজ দেশের কোনো প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করার। কিন্তু তার মেধা কিংবা যোগ্যতার যথাযথ প্রয়োগ হয়ত করতে পারবে না এদেশের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি। আর তাইতো ওয়াহিদ ইবনে রেজা নিজেই বাংলাদেশের জন্য একটা সিনেমা বানাচ্ছেন। নিজের প্রিয় জন্মভূমির জন্য একটা আস্ত প্রজেক্ট নিয়েই তিনি কাজ করছেন।

মুক্তিযুদ্ধের উপর ভিত্তি করে দেশের সর্বপ্রথম এনিমেশন একটি সিনেমা তৈরির কাজে হাত দিয়েছেন তিনি। ২০১৭ সালে প্রথম ঘোষণা দিয়েছিলেন ওয়াহিদ ইবনে রেজা, মুক্তিযুদ্ধের উপর তিনি নির্মাণ করবেন এনিমেশন ফিচার ফিল্ম। যার নাম, সারভাইভিং – ৭১। হলিউডের বিগ বাজেটের মুভিতে তিনি যেভাবে কাজ করেন, সেভাবে পারবেন কি? আগ্রহটা ছিল সবার মাঝেই।

অবশেষে প্রকাশ পেয়েছে সেই সিনেমার টিজার। মানুষটার পিতা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। বাবার কাছে যুদ্ধের গল্প শুনার প্রভাব তার মনে দাগ কেটেছে ভীষণভাবে। টিজার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা একজন মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধকালীন নানা ঘটনা খুব বেশি বলেননি তিনি, কিন্তু যখনই বলতেন, তখনই প্রচন্ড থ্রিল্ড হতাম। আমার আব্বা যুদ্ধ করতে গিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে ধরা পড়েছিলেন৷ উনিসহ আরও কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে চোখ-হাত বেঁধে ট্রেনে করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল৷ একজন একজন করে গুলি করে ট্রেন থেকে ফেলে দেয়া হচ্ছিল৷ যখন উনাকে গুলি করতে যাবে, ঠিক সেই সময় তিনি ট্রেন থেকে লাফ দেন এবং প্রাণে বেঁচে যান৷ এটা অসাধারণ একটা ইতিহাস।’

টিজারে এই ঘটনাই দেখানো হয়। সিনেমায় দুই বন্ধু আক্কু ও ধ্রুবর চোখ দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে দেখানোর চেষ্টা হবে। এই দুই বন্ধু অনেক রোমহষর্ক ঘটনার মধ্যে দিয়েও সারভাইভ করার চেষ্টা করবে এবং যুদ্ধে যোগ দিবে। যেই যুদ্ধে একসময় জয়ী হবে বাংলাদেশ।

দুই বন্ধুর চোখে যে ঘটনা দেখানোর চেষ্টায় ওয়াহিদ ইবনে রেজা, তা নিছকই কোনো ফিকশনই না, আমাদের ইতিহাস। তিনি জানিয়েছেন, ‘আমি চেষ্টা করছি, যেসব ঐতিহাসিক চরিত্র আগের কোনো চলচ্চিত্রে দেখানো হয়নি, তাদের কথা তুলে ধরতে৷ যেমন আমার সিনেমার একটা চরিত্রের নাম ধ্রুব আর একটা চরিত্রের নাম আক্কু, তাদের সাথে কবি নির্মলেন্দু গুণের দেখা হলো মার্চের শেষদিকে, জিঞ্জিরা জেনোসাইডের সময়। যেহেতু কবি গুণ জিঞ্জিরা জেনোসাইডের একজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন, তাই তার সাথে দেখা হওয়া অর্থ আমি জিঞ্জিরা জেনোসাইডটা দেখাতে পারছি।’

মূল চরিত্রে থাকছেন জয়া আহসান, মেহের আফরোজ শাওন, তানযীর তুহিন, গাউসুল আলম শাওন, সামির আহসান, অনিক খান প্রমুখ। এছাড়াও অতিথি ভয়েস আর্টিস্ট হিসেবে রয়েছেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, সাদাত হোসাইন ও কাজী পিয়াল।

এই সিনেমাটি কেবল একটি সিনেমা বা শুধুমাত্র ওয়াহিদ ইবনে রেজার নয়। এই সিনেমা গোটা বাংলাদেশের। যেখানে রয়েছে আবেগ, ভালবাসা। একটি দেশের লড়াই করার ইতিহাস। সিনেমার চরিত্রগুলো যেভাবে যুদ্ধ করেছে, সেভাবে প্রতিটি ঘরে ঘরে তখন এক একটি বীর এগিয়ে এসেছিল। যাদের জন্য স্বাধীন হয়েছিল যে দেশ।

 

টিজারটি দেখুন :