পাট সুতার বাজারে অস্থিরতা


পাট সুতার বাজারে অস্থিরতা

সোনালি আঁশ খ্যাঁত পাট সুতার আন্তর্জাতিক বাজারে চলছে দারুন অস্থিরতা। এ অবস্থায় পাট খাতের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের তহবিল দিয়ে গঠিত ২০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মেয়াদ পাঁচ বছর এবং তা  ৫০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে সরকারের কাছে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএসএ)।

গতকাল বিজেএসএর ৪০তম বার্ষিক সাধারণ সভা সংগঠনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিজেএসএ চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহ্জাহান। সভায় উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীক।

সভায় বলা হয়, পাট সুতার আন্তর্জাতিক বাজার সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সকল প্রতিষ্ঠানকে ধৈর্যের সঙ্গে সংকট মোকাবেলা করতে হবে। পণ্যের যথাযথ উৎপাদন ব্যয় নির্ধারণে বিশেষ মনোযোগী হতেও বলা হয়।

মোহাম্মদ শাহ্জাহান আরো বলেন, তুরস্কের পর চীনের পাট সুতার বাজারও নানা কারণে সংকট চলছে। চীনে সাধারণত নিম্নমানের পাট সুতা রফতানি হয়। নানা কারণে চীনের অর্থনীতিতেও এর বিরুপ প্রভাব পড়ছে। ভারত বাংলাদেশ থেকে পাটপণ্যের আমদানির বিপরীতে অ্যান্টি-ডাম্পিং ডিউটি আরোপের কারণে বর্তমানে  এ বাজারও ছোট হয়ে আসছে। বর্তমানে ইরানের অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক বাণিজ্যে অবরোধ আরোপের কারণে নাজুক। দেশটির আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা প্রায় ভেঙে পড়েছে। এ কারণে ইরানে পাট সুতা রফতানি ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে পাট শিল্পের উন্নয়নে সরকারের কাছে এরই মধ্যে পাঠানো সুপারিশগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। সুপারিশগুলোর মধ্যে আছে পাট খাতের জন্য ২০০ কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের মেয়াদ পাঁচ বছর এবং পরিমাণ ৫০০ কোটি টাকা বৃদ্ধি করা।

এছাড়াও সভায় পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০ যথাযথভাবে বাস্তবায়নের বিষয়েও বলা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, আইনের আওতায় মোট ১৯টি পণ্যের মোড়কীকরণে অবশ্যই পাটের বস্তা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে।

সম্প্রতি সরকার ‘পাটপণ্য ব্যতীত’ তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য রফতানি পণ্যের আয়কর শূন্য দশমিক ৬ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করে একটি আদেশ জারি করেছে। সেখানে পাটপণ্য কে  বাদ দেয়া হয়েছে বলে জানা যায়।