বর্তমান যুগে মানুষ জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির জন্য কত কিছুই না করে। কিন্তু সম্প্রতি আমেরিকার জর্জিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির এক দল গবেষক, সম্প্রতি শুয়োরের উপরে পরীক্ষা চালিয়ে জন্ম নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এই পদ্ধতিতে তারা জানিয়েছেন যে, কানে দুল, আঙুলে আংটি কিংবা নাকে নথ পরতে হবে যাতে লাগানো থাকবে নির্দিষ্ট হরমোন। এই হরমোন ত্বকের সাথে মিশে রক্তে গেলেই এখান থেকেই জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির সুফল পাওয়া যাবে।
গবেষক দলের একজন সদস্য বলেন, গয়না পরা মেয়েদের স্বভাব। এটা তাঁদের নিত্যদিনের অভ্যাস। তাই যাঁরা সন্তান চান না, তাঁরা ঝঞ্ঝাটহীন এই জন্ম নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারবেন।
তবে এবার তাদের এই পরীক্ষাটি মানুষের মধ্যে সফল হলে এই বছরেই তা বাজারে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। তাছাড়া মহিলাদের পাশাপাশি পুরুষদের নিয়েও তাদের গবেষণার কথা সম্পর্কে বলেন। তাঁরা একটি ক্যাপসুল নিয়ে কাজ করছেন, যা পুরুষদের স্পার্ম কাউন্ট কমিয়ে দেয়। তবে ওই ক্যাপসুল পুরুষদের জন্ম নিয়ন্ত্রক পিলের কাজ করছে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, এই পিলের ব্যবহারে কয়েকটি পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। এই সব পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া যাতে না-হয়, পরবর্তী পর্যায়ের গবেষণায় তাঁরা সে-দিকে লক্ষ্য রাখার কথাও জানান।
প্রধান গবেষক স্টিফেনি বলেন, ‘‘আমরা যে-গবেষণা চালাচ্ছি, তা সফল হওয়ার পথে। আমাদের বিশ্বাস, আমরা পুরুষদের জন্য এক ধরনের পিল তৈরি করে ফেলতে পারব। যা পুরুষদের জন্ম নিয়ন্ত্রণে আরও উৎসাহী করে তুলবে।’’
গবেষকেরা গয়নাকে জন্ম নিয়ন্ত্রণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহারের প্রসঙ্গে বলেন , চামড়ার উপরে লাগানো স্ট্রিপের মাধ্যমে জন্ম নিরোধক হরমোন শরীরের ঢোকানোর প্রক্রিয়া (ট্রান্সডার্মাল স্ট্রিপ) এখন খুবই জনপ্রিয়। সেই পদ্ধতি থেকেই এই গবেষণায় হাত দিয়েছেন তাঁরা।
তাঁদের মন্তব্য, শুয়োরের উপরে পরীক্ষায় সফল হওয়ার পরে তাঁরা এখন মানুষের উপরেও এই পরীক্ষা দ্রুত শুরু করবেন। এবং অতি দ্রুত এই জন্ম নিয়ন্ত্রক বাজারে আনবেন।
