সুপ্রভাত বাসের ১৬৩ টির মধ্যে অধিকাংশরই কাগজপত্র সঠিক নেই



বহুল আলোচিত সুপ্রভাত পরিবহনের চলাচলের বৈধতাসহ সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র মেয়াদোত্তীর্ণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ।

গত ১৯ মার্চ রাজধানীর নদ্দা এলাকায় সুপ্রভাত বাসের চাপায় ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের শিক্ষার্থী আবরার নিহত হওয়ার ঘটনায় সেই বাসের রেজিস্ট্রেশন, রুট পারমিট সাময়িক ভাবে বাতিল করে বিআরটিএ।

এ ঘটনায় ওই বাসের চালক মো. সিরাজুল ইসলামের ড্রাইভিং লাইসেন্সও বাতিল করা হয়। এবং পরের দিন সুপ্রভাত পরিবহনের সকল বাসের চলাচলের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

বিআরটিএ কত্ত্রিপক্ষ জানায়, আবরারকে চাপা দেওয়া ঢাকা মেট্রো ব-১১-৪১৩৫ নম্বরের বাসটি ঢাকার মহাখালী থেকে টঙ্গী, কালিগঞ্জ, নরসিংদী, ভৈরব হয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটে চলাচল করার কথা। কিন্তু সেই রুটে চলাচল না করে বাসটি সদরঘাট থেকে টঙ্গী রুটে চালানো হচ্ছিল।

গত ২১ মার্চ সুপ্রভাত পরিবহনের সকল বাসের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে বিআরটিএর পরিচালক কে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে বিআরটিএ। সুপ্রভাত পরিবহনের ১৬৩টি পরিবহনের ২৯টি বাসের কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় এই কমিটি।

এই পরিবহনের ১৬৩ টি বাসের মধ্যে ১৪৫ টির ই চলাচলের জন্য বৈধ লাইসেন্স ছিলোনা বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিআরটিএর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুপ্রভাত পরিবহনের ২৯টি বাস চলাচল করছিল মেয়াদোত্তীর্ণ ফিটনেস সনদ নিয়ে। ১৪টি বাসের ট্যাক্স টোকেন ও দুটি বাসের চলাচলের বৈধতা ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ।

এছাড়া সুপ্রভাতের ১০৪টি বাসের লাইসেন্সের শ্রেণি সঠিক পাওয়া যায়নি; আর ৩২টির লাইসেন্স বিআরটিএতে দাখিল করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তবে এই পরিবহনের ১৮টি বাসের ফিটনেস, ট্যাক্স টোকেন, রুট পারমিট সনদ ও ড্রাইভিং লাইসেন্স সঠিক পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ। এছাড়া এসব বাসের চালকদের ২৭টির শ্রেণি সঠিক ছিল। এই পরিবহনের অন্য রুটের বাসের কাগজপত্র যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে বিআরটিএ।