বোরখা পরে কারা পুড়িয়ে মারতে চেয়েছিলো মেয়েটিকে?


burn nusrat #paperslife

ফেনীর সোনাগাজীতে আলিম পরীক্ষার সময় কেন্দ্রের ভেতরে পরীক্ষার্থী এক ছাত্রীর গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়ে হত্যাচেষ্টা করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় দগ্ধ নুসরাত জাহান রাফিকে ঢাকা আনা হয়েছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন নুসরাতের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকেরা।

ঘটনার পর বোন তাদের এ কথা জানিয়েছে উল্লেখ করে নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান জানান, গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া চার দুর্বৃত্তই ছিল বোরকা পরা। ফলে রাফি চারজনেই কাউকেই চিনতে পারেনি। তবে চারজনের মধ্যে একজন নারীকণ্ঠে রাফির সঙ্গে কথা বলেছে। বাকি তিনজন চুপ ছিলো।

নোমান বলেন, পরীক্ষার কেন্দ্রে যাওয়ার পর একজন পরীক্ষার্থী রাফিকে বলে, তার (রাফির) এক বান্ধবীকে কারা যেন ছাদে মারধর করছে। এটা শুনে রাফি ছাদে যান। সেখানেই এই ঘটনা ঘটে।

পরিবারের দাবি, ২৭ মার্চের ঘটনার জের ধরে সোনাগাজী ইসলামিয়া অধ্যক্ষ সিরাজুদ্দৌলা তার লোকজন দিয়ে আজকের ঘটনা ঘটিয়েছেন।

সেইদিন সিরাজুদ্দৌলা মাদ্রাসায় নিজ কক্ষে রাফিকে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। রাজি হলে আলিম পরীক্ষার প্রশ্নপত্র আগে দেওয়া হবে অধ্যক্ষ উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় মামলা হওয়ায় অধ্যক্ষ এখন জেলে আছেন।

বার্ন ইউনিটের আবাসিক চিকিৎসক পার্থ শংকর পাল সাংবাদিকদের বলেন, রাফির শরীরের মুখমণ্ডলের ক্ষতি হয়নি। তবে তাঁর শরীরের ৭৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। শ্বাসনালি পুড়ে না গেলেও রাফির অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানান তিনি।

যদিও এই ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। তবে সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ঘটনাটি পুলিশ খুব গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে খতিয়ে দেখছে। এ ঘটনায় কে বা কারা জড়িত, তা তদন্ত করে বের করা হবে।

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে দাখিল পরীক্ষা দেওয়ার সময়ও এলাকার দুর্বৃত্তরা রাফির ওপর হামলা চালায়। সেবার মেয়েটির চোখে চুন মারা হয়। এতে রাফির ডান চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো।