সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার রহিমেরপাড়া গ্রামের অধিবাসীরা এক ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করে। গ্রামটি ভারত সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।
ফুটবল টুর্নামেন্টের এই আয়োজনে প্ৰথম পুরস্কার হিসেবে একটি জ্যান্ত হরিণ, দ্বিতীয় পুরস্কার একটি জ্যান্ত ঘোড়া, তৃতীয় পুরস্কার একটি খাসি, চতুর্থ পুরস্কার একটি ভেড়া নির্ধারণ করা হয়।
এলাকাবাসীর উদ্যোগে টুর্নামেন্ট আয়োজনের পোস্টারে বড় বড় অক্ষরে এভাবেই দেওয়া আছে পুরস্কারের ঘোষণা। কিন্তু প্রথম পুরস্কার হিসেবে বিরল প্রাণী ‘জ্যান্ত হরিণ’ দেওয়ার বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।
এলাকাবাসী জানায়, পনেরো দিন আগে গ্রামের লোকেরা সীমান্তের ওপার থেকে আসা একটি হরিণ আটকে রাখেন। এরপর এই হরিণকেই প্রথম পুরস্কার ঘোষণা দিয়ে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়।
এই বিষয়ে টুর্নামেন্টের আয়োজক কমিটির সভাপতি জানান, আটকে রাখা হরিণটি নিয়ে তাঁরা কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না। এ জন্য একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়। কিন্তু হরিণ পুরস্কার দেওয়া নিষিদ্ধ, সেটি তাঁরা জানতেন না।
বন বিভাগের দোয়ারাবাজার উপজেলা বিট কর্মকর্তা বলেন, হরিণ পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টি এলাকার এক ব্যক্তি মুঠোফোনে সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ে জানান। পরে সেখান থেকে জানানো হয় সুনামগঞ্জ কার্যালয়ে।
সুনামগঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি গতকাল সোমবার বিকেলে ওই গ্রামে গিয়ে হরিণটি উদ্ধার করেন। তিনি বলেন, ‘গ্রামের লোকজন হরিণটি প্রথমে দিতে রাজি হননি। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললে তাঁরা সেটি দিতে রাজি হন। রাতেই হরিণটি সিলেটের খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানে নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’
বন বিভাগের সুনামগঞ্জ জেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা জানান, ‘খেলায় এভাবে হরিণ পুরস্কার দেওয়া কোনোভাবেই আইনসম্মত নয়। ওই গ্রামে হরিণটি আটকের পর প্রথমে আমাদের কেউ জানায়নি। পরে জানতে পেরে আমরা সেটি উদ্ধার করি।’

বন বিভাগের কর্মকর্তারা হরিণ নিয়ে যাওয়ায় টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ দ্বন্দ্বে পড়েছে, আদৌ এ আয়োজন তারা করবে কি না।
কোন ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজনে ‘প্রাণী পুরস্কার’ দেয়ার ঘটনা নজর কাড়ে সবার।

