অদৃশ্য শক্তির বলে শক্তিশালী সোনাগাজীর অধ্যক্ষ



আলোচিত ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে তুলে সবসময় সেই মাদরাসার নিয়ন্ত্রণ নিজের কাছে রাখেন।

জানা যায়, ফেনীর সোনাগাজীর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ আছে।

এছাড়া ওই প্রতিষ্ঠানের ছাত্রীদের যৌন হয়রানি, আর্থিক দুর্নীতি, ছাড়াও পুলিশের হামলার অভিযোগ রয়েছে। সেই হামলায় মামলা হলে তিন ধাপে কারাভোগ করেন এই অধ্যক্ষ।

কিন্তু তারপরেও তার এই সব অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পেত না। কারণটি জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন।

তারা জানান, এই অধ্যক্ষ কিছু ক্ষমতাধর লোকজন নিয়ে একটি শক্তিশালী চক্র গড়ে তোলেন। কেউ প্রতিবাদের কথা বললেই নানা রকম হুমকি,ধামকি দিয়ে মানুষজনকে আতঙ্কিত করে।

এক অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানিয়ভাবে এই চক্রে ১০ থেকে ১২ জন রয়েছেন। জানা যায়,  আলোচিত ওই  চক্রের নিহত নুসরাত জাহান রাফির ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় আসামি হন পাঁচজন।

তারা হলেন আফছার উদ্দিন, মাকসুদ আলম, আবদুল কাদের, নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামীম। এখন পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পুলিশ শুধু আফছার উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে এবং ওই চক্রের বাকি সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।

এছাড়াও, স্থানীয় লোকজন জানান,  সোনাগাজী পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলম। তিনি এই মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে আছেন। এবং অধ্যক্ষ সিরাজকে সব সময় তিনি সহায়তা করেন।

তারা বলেন, গত ২৭ মার্চ অগ্নিদগ্ধ নুসরাতের শ্লীলতাহানির ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করলে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষের পক্ষের কিছু লোকজন নিয়ে বাধা দেন স্থানীয় ওই আওয়ামীলীগ নেতা  মাকসুদ আলম।

এ ঘটনার পর সাধারন মানুষ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। এর ফলে এ ঘটনায় ফেনীর  সোনাগাজীতে কোনো কর্মসূচি পালিত হয়।