ফেনীর মাদরাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিনকে আটক করেছে পিবিআই।
আজ শুক্রবার বিকেলে তাকে তার সোনাগাজীর বাড়ি থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় রাজনীতিরও প্রভাব রয়েছে বলে এই ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি তদন্তে গঠিত কমিটির প্রধান ডিআইজি এস এম রুহুল আমিন অভিমত দেওয়ার পরদিন স্থানীয় আওয়ামী লীগের সভাপতিকে ধরা হল।
আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সদ্য সাবেক ব্যবস্থাপনা কমিটির সহ-সভাপতি। অনেকে বলছেন, নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পর শাহাদাত হোসেন শামীম ফোন করে রুহুল আমিনকে ঘটনা জানিয়েছিলেন।
এর আগে একই অভিযোগে এর আগে সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সোনাগাজী পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাকসুদ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ৬ এপ্রিল আলিম পরীক্ষার্থী রাফিকে সোনাগাজী ইসলামিয়া মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় করা মামলার তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এক সংবাদ সম্মেলনে তদন্তকারী সংস্থা বলেছে, দুটি কারণে নুসরাতকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এক. শ্লীলতাহানির মামলা করে অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করিয়ে নুসরাত আলেম সমাজকে ‘হেয়’ করেছেন। দুই. আসামি শাহাদাত নুসরাতকে বারবার প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছেন। কিন্তু নুসরাত তা গ্রহণ না করায় শাহাদাতও হত্যার পরিকল্পনা করেন। নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আট আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে এ পর্যন্ত ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

