রোববার সকাল ও দুপুরে শ্রীলঙ্কায় দুই দফায় তিনটি গির্জা ও চারটি হোটেলসহ আট জায়গায় বোমা হামলায় ২৯০ জন নিহতের ঘতনায়,আজ সোমবার মধ্যরাত থেকে দেশটিতে জরুরী অবস্থা(কারফিউ) জারি করা হয়েছে।
এদিকে রাজধানী কলম্বোতে টানা দ্বিতীয় রাতের মত কারফিউ জারি করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। সোমবার রাত ৮টা থেকে ভোর ৪টা পর্যন্ত এই কারফিউ বলবৎ থাকবে বলে জানা গেছে।
হামলার পর থেকেই দেশটির বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর তল্লাশি অভিযান চলছে। এবং এই অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। তারা সবাই শ্রীলঙ্কার নাগরিক।
জানা গেছে, শ্রীলঙ্কায় একের পর এক বোমা হামলায় সাতজন আত্মঘাতী হামলাকারী অংশ নিয়েছিলেন।
এদিকে বোমা হামলার ঘটনায় হামলাকারীরা স্থানীয় নাকি আন্তর্জাতিক এ নিয়েও চলছে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য। তবে দেশটির মন্ত্রিসভার মুখপাত্র রাজিথা সিনারত্ন দাবি করেছেন যে, স্থানীয় উগ্রপন্থী ইসলামি দল ন্যাশনাল তাওহিদ জামাত (এনটিজে) এ হামলায় জড়িত। তবে, আন্তর্জাতিক কোনো গোষ্ঠী তাদের সহায়তা করেছে কি না, এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এই হামলায় রাজিথা সিনারত্নের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, হামলায় আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক জড়িত। স্থানীয় কোনো দল এভাবে হামলা চালাতে পারে না। আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ছাড়া এ ধরনের হামলা সফল হতো না বলেও উল্লেখ করেছেন রাজিথা সিনারত্নে।
ভয়াবহ এই হামলার পর থেকেই ভারতীয় কোস্টগার্ড তাদের সমুদ্র সীমানায় ব্যাপক নজরদারি শুরু করেছে। যাতে করে হামলাকারীরা কোনভাবেই তাদের দেশে প্রবেশ করতে না পারে।
তবে হামলাকারীরা কিভাবে হামলা করেছিল সেসব বিষয়েও তদন্ত শুরু করেছে শ্রীলঙ্কান নিরাপত্তা বাহিনী।
শ্রীলঙ্কায় রোববারের বোমা হামলায় নিহত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি জায়ান চৌধুরীর মরদেহ দেশে আনা হবে আগামীকাল। সোমবার সকালে বনানীতে তাদের বাসভবনে স্বান্তনা জানাতে গিয়ে এ তথ্য জানান শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন।
তিনি আরও জানান, বোমার আঘাতে শেখ সেলিমের মেয়ের জামাই মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্সের দুই পা জখম হয়েছে। তাঁর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় এখনই তাকে দেশে আনা হচ্ছে না।
জানা যায়, শেখ সেলিমের মেয়ে শেখ সোনিয়া, স্বামী মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স তাদের দুই ছেলেকে নিয়ে শ্রীলঙ্কায় চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। এ সময় তারা কলম্বোর পাঁচ তারকা হোটেল শাংরি -লাতে উঠেছিলেন। হামলার সময় ছোট ছেলে জায়ানকে নিয়ে হোটেলের নিচতলার রেস্তোরাঁয় গিয়েছিলেন মশিউল।
বোমা হামলায় মশিউল আহত এবং জায়ান নিখোঁজ হয়। পরে জায়ানের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এছাড়াও, হামলার সময় শেখ সোনিয়া বড় ছেলে জোহানকে নিয়ে হোটেলের ছয়তলায় নিজেদের রুমে থাকায় বেঁচে যান তারা।
রোববারের এই সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের মধ্যে ভারত, জাপান, যুক্তরাজ্যের নাগরিক সহ অন্তত ৩৬জন বিদেশি রয়েছেন বলে জানা যায়।

