এবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়াতে ইহুদিদের ধর্মীয় উপাসনালয় সিনাগগে বন্দুক হামলা ঘটেছে। এ হামলায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হয়েছে। হামলাকে কেন্দ্র করে ১৯ বছর বয়সী এক যুবককে আটক করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জানা যায়, সান ডিয়েগোর বাইরে শনিবারে এই হামলা ঘটে, হামলায় এক নারী নিহত হন। তাছাড়া একজন রাব্বি (ধর্মীয় শিক্ষক), এক কিশোরী ও দুইজন পুরুষ আহত হয়েছেন।
ক্যালিফোর্নিয়ার পালোমার হেলথ মেডিকেল হসপিটালের মুখপাত্র সাংবাদিকদের জানায়, দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে আহত অবস্থায় চারজনকে ভর্তি করা হয়েছিল সেখানে৷
স্যান ডিয়েগো কাউন্টি শৈরিফ সংবাদ সম্মেলনে জানান, হামলাকারী একজন ‘সাদা’ যুবক এবং একটি এআর ধরনের অ্যাসল্ট অস্ত্র ব্যবহার করেন৷ ১৯ বছর বয়সি এক যুবককে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছে৷
ধারণা করা হচ্ছে, মূলত ইহুদিবিদ্বেষ থেকেই হামলা চালানো হয়েছে৷ তবে গোরে এ ব্যাপারে বিস্তারিত কিছু জানাননি৷ শুধু এটুকুই বলেছেন যে, সামাজিক গণমাধ্যমে ঐ যুবক একটি ইহুদি বিদ্বেষমূলক খোলা চিঠি প্রকাশ করেছিলেন৷
চিঠিটিতে তিনি প্রকাশ করেছিলেন সেই চিঠিতে নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলা ও যুক্তরাষ্ট্রের পিটবুর্গের ট্রি অফ লাইফ সিনাগগে হামলার ঘটনায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হয়েছে৷
এছাড়া গত মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার এসকোন্ডিডোতে একটি মসজিদে আগুন লাগানোর দায় স্বীকার করা হয়েছে৷ সেই আগুনে অবশ্য হতাহতের ঘটনা ঘটেনি৷
গোরে আরও জানান, ‘তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলোর কপি আমাদের কাছে আছে এবং আমরা সেগুলোর সত্যাসত্য যাচাই করবো এবং তদন্তকাজে ব্যবহার করব’।
এমন ঘটনায় আক্রান্তদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ তিনি এই ‘হেইট ক্রাইম’-এর নিন্দা জানান৷
জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী টুইটার বার্তায় লেখেন, ‘আমরা আবারো শঙ্কাজনক ইহুদি বিদ্বেষের উদাহরণ দেখলাম৷ পোলওয়ে সিনাগগে হামলার অর্থ আমাদের সবার ওপর হামলা৷ আমরা নিহতের স্বজন ও আহতদের প্রতি সহমর্মিতা জানাই৷’
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বলেন, ইহুদি বিদ্বেষ আজও সব জায়গাতেই আছে৷ ঠিক ছয়মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের পিটবুর্গে আরেকটি সিনাগগে হামলায় ১১ জন মারা যান৷
ইদানিং ধর্মীয় উপাসনালয়গুলাতে যেভাবে একের পর এক হামলা হচ্ছে তাতে করে পরিবারের কাউকে না কাউকে হারাচ্ছেন অনেকে। এমন ঘটনার নিন্দা জানাচ্ছে বিশ্বব্যাপী, হচ্ছে শোকাহত।

