জনসন অ্যান্ড জনসনকে আড়াই কোটি ডলার দেয়ার নির্দেশ আদালতের


paperslife

সম্প্রতি নামকরা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসনকে(জেঅ্যান্ডজে) আড়াই কোটি ডলার দেয়ার আদেশ দিয়েছেন নিউইয়র্কের একটি আদালত।

জানা গেছে, জনসন অ্যান্ড জনসনের পণ্য ব্যবহার করে ক্ষতিকর অ্যাসবেসটস-ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছেন এক নারী। রয়টার্সের এক খবরে জানা যায়, এ বিষয়ে নিউইয়র্কের আদালতে ওই নারীর অভিযোগ করেছে যে, তার ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার পেছনে কয়েক দশক ধরে জেঅ্যান্ডজে বেবি পাউডার এবং শাওয়ার টু শাওয়ার নামে একটি ট্যালকম পাউডার এর প্রভাব রয়েছে।

জেঅ্যান্ডজে পণ্যের এসবেসটসের জন্য ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার ও মেসোথেলিওমা নামে একটি বিরল ক্যান্সারের কারণ। এরকম অনেক অভিযোগ আদালতে চলছে বলেও জানা গেছে।

তবে এ বিষয়ে কোম্পানিটি তাদের পণ্যে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান বা জীবন বিপন্নকারী উপাদান আছে—এ দাবি বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

বিচারিক প্রক্রিয়ায় জেঅ্যান্ডজের কিছু রেকর্ড পাওয়া গেছে। গত ১৩ মার্চ ক্যালিফোর্নিয়ায় আদালতের এক রায়ে ২ কোটি ৯০ লাখ ডলার জরিমানা হয়েছে জেঅ্যান্ডজের তবে ২৭ মার্চে নিউজার্সির একটি মামলার রায় তাদের পক্ষে গিয়েছিল। এছাড়াও, গত ৫ এপ্রিল ক্যালিফোর্নিয়ায় অন্য একটি মামলায় জয়ী হয়েছে জেঅ্যান্ডজে। দক্ষিণ ক্যারোলাইনা ও ক্যালিফোর্নিয়ায় এরকম আরো কিছু মামলা আছে বলেও জানা গেছে।

২০১৬ সালে জেঅ্যান্ডজের ট্যালকম পাউডারের বিরুদ্ধে ক্যান্সার সৃষ্টির অভিযোগ ওঠার পর এ নিয়ে ১০ জন অভিযোগকারী মামলায় জয়ী হয়েছেন। ব্লুমবার্গের সংগৃহীত উপাত্তে আরো দেখা গেছে, ছয়টি মামলায় জয়ী হয়েছে জেঅ্যান্ডজে এবং তিনটি মামলা অচলাবস্থা চলছে। কয়েকজন বাদীর পক্ষে রায় বাতিল হয়েছে, আবার কয়েকটি মামলা আপিলে ঝুলছে।

এছাড়াও, রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৬ সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান থেকে সম্ভাব্য ক্যান্সার সৃষ্টিকারী উপাদান হিসেবে বেবি পাউডারের মতো কসমেটিক ট্যালকম পাউডারগুলো তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।

আরও জানা যায়, ফুসফুসে মেসোথেলিওমায় আক্রান্ত হয়েছিলেন অলসন। এ সময় তিনি জানান, আট বছর বয়স থেকে ১৯৮৪ সালে বিয়ের পূর্ব পর্যন্ত জেঅ্যান্ডজের বেবি পাউডার ব্যবহার করেছেন। এ বিষয়ে তিনি আদালতে অভিযোগ করেন যে, জেঅ্যান্ডজে ‘ভোক্তাদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার চেয়ে বাণিজ্যিক মুনাফা ও সুনামকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।