টাইগাররা এখন হতাশ হয় না


Saifuddin @paperslife

এটি বোধহয় এই বিশ্বকাপের সেরা ম্যাচের একটি। বাংলাদেশ দেখিয়ে দিলো সামর্থ্য। শেষ বেলায়ও লড়াইয়ের তেজ দেখলো বিশ্ব।
২০ ওভারে ৯০ রান দরকার নিউজিল্যান্ডের। হাতে আছে ৮ উইকেট। কিন্তু ম্যাচটি এতো দূর গড়াবে, সেটা কেউ ভেবেছিলো?

ম্যাচটা এক পেশে বানিয়ে ফেলেছিলেন রস টেলর ও কেন উইলিয়ামসন। ৩২তম ওভারের প্রথম বলে কেন উইলিয়ামসন আউট হলেন। তখনো বাংলাদেশের সমর্থকদের মনে কোনো আশার দুলুনি শুরু হয়নি। কেন হবে? ১১৩ বলে ৮৫ রান দরকার নিউজিল্যান্ডের। এ রান তো টেলর কিছুক্ষণের মধ্যেই তুলে ফেলবেন।

কিন্তু মিরাজের ওই ওভারেই একটু নড়েচড়ে বসতে হলো। টম ল্যাথাম রানের খাতা ছক্কা দিয়ে খুলতে গিয়ে সাইফউদ্দীনের ডাইভিং ক্যাচে অক্কা পেলেন। ৪ উইকেটে ১৬২। আশার পালে তীব্র হাওয়া না লাগুক, মৃদু তো লাগলই। কিন্তু টেলর ও জিমি নিশাম সেদিকে তাকালেন না। দ্রুত রান তুলে নিতে লাগলেন দুজন।

সাকিব আল হাসানের একমাত্র ওভার ধরে রাখতে হবে, ওদিকে সাইফউদ্দিনকে দরকার স্লগ ওভারে। বল তাই উঠল মোসাদ্দেকের হাতে। মোসাদ্দেকের আপাত নিরীহ অফ স্পিনে কিছু হবে বলে মনে হচ্ছিল না। এমন সময় লেগ সাইড দিয়ে একটি বল হলো। আপাতদৃষ্টিতে ওয়াইড মনে হওয়া সে বল গ্লাভসে নিয়েই লাফিয়ে উঠলেন মুশফিক, যোগ দিলেন মোসাদ্দেক। স্মিত মুখে পল রাইফেল মাথা দোলালেন। তবু বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা সন্তুষ্ট না হওয়াতে আঙুলও তুললেন। ৮২ রানে ফিরলেন রস টেলর। ১৯১ রানে পঞ্চম উইকেট হারাল নিউজিল্যান্ড।

বাকি রান তুলতে আরও ৩ উইকেট হারিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ২ উইকেটে ম্যাচ হারলেও শেষ পর্যন্ত লড়াই করছে টাইগাররা।

আগের মতো ম্যাচের শেষ হওয়ার আগেই প্রতিকূল সময়ে হাল ছেড়ে দেয়া সেই বাংলাদেশ এখন ইতিহাস। টাইগাররা এখন শেষ সময় পর্যন্ত জেতার ছন্দে লড়তে জানে।