এবারো ঈদের ছুটিতে ৪ জুন থেকে ৭ জন (মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত) ঢাকা, সিরাজগঞ্জ, ভোলা, বগুড়া, বাগেরহাট, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, নেত্রকোনা ও সিলেটে ৫০টির বেশি সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৩২ জন নিহত। আহত হয়েছেন শতাধিক।
পুলিশের দেয়া তথ্যমতে,নিহতদের মধ্যে ২২ জনই মোটরসাইকেল আরোহী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঈদের সময় অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে সাধারণ সময়ের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি যানবাহন থাকে সড়ক-মহাসড়কে। বাড়তি ট্রিপ দিতে গিয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন চালকরা। ফলে ঘটছে দুর্ঘটনা।
জানা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে সারা দেশ থেকে মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসা নিতে এসেছেন ৩৭৫ জন। এর মধ্যে ১৪০ জনের অবস্থা গুরুতর।
সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে চিকিৎসা নিতে আসাদের অধিকাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। তাদের প্রত্যেকের শরীরেই রয়েছে গুরুতর জখম।
গত বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারে মাত্র ১ ঘণ্টার ব্যবধানে দুজন মোটরসাইকেল আরোহীর মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন আরো দুজন। নিহতরা হলেন- মো. ইমন ও রিয়াজ আহম্মেদ।
ইমন রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। রিয়াজ এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। আহতরা হলেন মো. সোহাগ ও মো. নাসিম।
ঢাকার বাইরে মাগুরায় এক, সিরাজগঞ্জে ছয়, ভোলায় দুই, বগুড়ায় এক, বাগেরহাটে দুই, ঝিনাইদহে দুই, ফরিদপুরে ছয়, নেত্রকোনায় দুই এবং সিলেটে একজন নিহত হন।
সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার দক্ষিণ গোয়ালাবাজার ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে এক গৃহবধূ নিহত এবং কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। নিহত খুর্শেদা বেগম (২০) সুনামগঞ্জ সদর থানার বেড়িগাঁও গ্রামের ফারুক মিয়ার স্ত্রী।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ওসি জসিম উদ্দিন জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী শাহজালাল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ভোর সাড়ে ৫টার দিকে খাদে পড়ে যায়। এতে বাসের যাত্রী খুর্শেদা ঘটনাস্থলে নিহত হন। আহত হন কমপক্ষে ৩০ যাত্রী।

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া ও রায়গঞ্জ উপজেলায় গত বৃহস্পতিবার ও মঙ্গলবার পৃথক দুই দুর্ঘটনায় ছয়জন মারা যান। উল্লাপাড়া উপজেলার হরিণচড়া বাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার প্রাইভেট কার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে গেলে চালকসহ এক ব্যাংক কর্মকর্তা নিহত হন।
মঙ্গলবার ভোরে রায়গঞ্জ উপজেলার শিমলা নামক স্থানে ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের বাস খাদে পড়ে চারজন নিহত ও ২৭ জন আহত হন।
বগুড়া: গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মাহীপুরে বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত এবং আরো ২০ জন আহত হন। নিহত শহিদুল ইসলাম একই উপজেলার বাসিন্দা।
শেরপুর থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা বগুড়ামুখী একটি বাসের সঙ্গে আরেকটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে হতাহতের এ ঘটনা ঘটে।
এই জাতীয় আরও খবর : ঈদের দিন সড়কে ঝরলো ২১ প্রাণ
বাগেরহাট: বুধবার রাতে বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার মহেশপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন। আহত হন আরো দুজন। নিহতরা হলেন পিরোজপুর জেলার মহাদেব সাহার ছেলে স্বপন সাহা ও আফজাল খানের ছেলে শাওন খান।
মোড়েলগঞ্জ থানার ওসি একেএম আজিজুল ইসলাম জানান, রাতে দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই একই মোটরসাইকেলের দুজন আরোহী নিহত এবং অন্য মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হন।
ভোলা: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা এলাকায় বৃহস্পতিবার দুপুরে বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে দুজন নিহত হন। নিহতরা হলেন ইকবাল ও সোহাগ। সম্পর্কে তারা আপন ভাই। তাদের বাড়ি দৌলতখানের সৈয়দপুর ইউনিয়নে।
বোরহানউদ্দিন থানার ওসি এনামুল হক জানান, ইকবাল ও সোহাগ বেলা ২টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে বোরহানউদ্দিন থেকে দৌলতখানে যাচ্ছিলেন। পথে ভোলা-চরফ্যাশন সড়কে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাসের সঙ্গে তাদের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে একজন নিহত হন।
ঝিনাইদহ: বুধবার সকালে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার খোর্দ্দ-খালিশপুর এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুই আরোহী নিহত ও একজন আহত হন। নিহতরা হলেন ওই উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের আলিম হোসেনের ছেলে বিপলু হোসেন ও চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার রায়পুর গ্রামের আসাদুল ইসলামের ছেলে রানা।
ফরিদপুর: ফরিদপুর সদর উপজেলার ধুলদী রেলগেট এলাকায় বুধবার সকালে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ছয়জন নিহত এবং আরো ১৫ জন আহত হন।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. নুরুল আলম দুলাল জানান, সকাল পৌনে ৭টার দিকে একে ট্রাভেলসের একটি বাস ঢাকা থেকে ঘরমুখো ঈদের যাত্রীদের নিয়ে চুয়াডাঙ্গার দিকে যাচ্ছিল। পথে ধুলদী রেলগেট এলাকায় বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন।
নেত্রকোনা: নেত্রকোনা সদর উপজেলার চাল্লিশা রেলগেট এলাকায় মঙ্গলবার বাসের চাপায় মোটরসাইকেলের দুই আরোহী নিহত এবং একজন গুরুতর আহত হন। নিহতরা হলেন চাল্লিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান ও বামনমোহন গ্রামের শফিকুল ইসলাম।
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী জানান, বিকালে মোটরসাইকেলটিকে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাস চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে দুজন মারা যান।
মাগুরা: মাগুরায় ইঞ্জিনচালিত নসিমনের সঙ্গে সংঘর্ষে সোহাগ নামের এক মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। মাগুরা সদর উপজেলার পাকা কাঞ্চনপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সোহাগ শালিখা উপজেলার কালীবাড়ি গ্রামের ওহাব মোল্লার ছেলে।
সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) পারভেজ আহমেদ জানান, নিহত সোহাগ একজন নির্মাণশ্রমিক। মোটরসাইকেলে করে মাগুরার দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। পাকা কাঞ্চনপুর আসার পর বিপরীত দিক থেকে আসা ইঞ্জিনচালিত একটি নসিমনের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনি নিহত হন।

