সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে সেলাই মেশিন দিল পুলিশ


paperslife

মর্জিনা বেগম (৫২) নামে হত্যা মামলার আসামী এক নারী সম্প্রতি ২৩ বছর সাজা ভোগ করে মুক্তি পেয়েছে।

তাঁর এই মুক্তিতে বাগেরহাট জেলা কারাগার কর্তৃপক্ষ আজ দুপুরে জেলা কারাগার গেটে জেল সুপার এই নারীর হাতে একটি সেলাই মেশিন তুলে দেয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলার এসএম মহিউদ্দিন হায়দার, সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন অফিসার এসএম নাজমুস সাকিব সহ জেলা কারাগারের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, ১৯৬৬ সালের ২০ জুলাই স্বামীর বাড়িতে দুই কন্যা সন্তানের জননী নিজ শতীনকে হত্যা করে।

ঘটনার দিনই পুলিশ মর্জিনাকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আদলতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয় তাঁকে।

মামলার সাক্ষী প্রমান শেষে আদালত যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেয় মর্জিনা বেগমকে।

এর মধ্যে যশোর কারাগারে ১০ বছর এবং বাকি সময় বাগেরহাট কারাগারে কাটান আসামী মর্জিনা। তাঁর ভালো ব্যবহারের জন্য সাত বছর সাজা কমিয়ে আজ দুপুরে মর্জিনা বেগমকে মুক্তি দেয় কারাগার কর্তৃপক্ষ।

মর্জিনা বেগম জানান, ‘জীবনের বেশিরভাগ সময় কারাগারে কাটিয়েছি। এখানে স্যারদের কথামত চলেছি। আজ চলে যাচ্ছি। আমি যে মেশিনটা পেয়েছি সেটা দিয়ে বাড়ির সামনে একটা দোকান দেয়ার চেষ্ঠা করবো।’

জেলার এসএম বলেন, ‘ভালো আচরণের জন্য সাজা কমিয়ে নির্ধারিত সময়ের সাত বছর আগে মর্জিনাকে মুক্তি দেয়া হয়েছে। তাকে পুনর্বাসনের জন্য অপরাধী সংশোধন ও পুনর্বাসন সমিতির পক্ষ থেকে একটি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। সে যদি দোকান দিতে চায় তাহলে আর্থিক সহযোগিতা করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।’

দন্ডপ্রাপ্ত সকল আসামী যদি তাদের সংশোধন করে আর কারাগার কর্তৃপক্ষ তার মূল্যায়ন করে তবে সকল আসামী ভালো হয়ে উঠবে। মর্জিনাকে দেয়া সেলাই মেশিন তারই কথা বলে।