খ্যাপাটে বাংলাদেশের ‘ক্যাপ্টেন কুল’ তিনি


bdnews24 bangla newspaper, bangladesh news 24, bangla newspaper prothom alo, bd news live, indian bangla newspaper, bd news live today, bbc bangla news, bangla breaking news 24

আকবর আলী যখন মাঠে নেমেছেন, বাংলাদেশের তখন চার উইকেট নেই। তামিম-ইমনের দুর্দান্ত শুরুর পর হঠাৎ করে এমনভাবে খেই হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়।

অতীতে এমন হয়েছে বহুবার। তীরে এসে তরী ডুবেছে, কাছে যেয়েও বিজয়ের গল্পটা লেখা হয়নি। ভারতের বিপক্ষে এমন চিত্রের সাথে বেশ ভালো পরিচয় এদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের।

তাই শঙ্কা, ভয়, আক্ষেপ সবকিছু মিলেমিশে একাকার হয়ে ভারতের বিপক্ষে এমন লড়াইয়ে। এ লড়াই জিততে হলে হতে হবে ঠান্ডা মেজাজের।

এমনই এক ঠান্ডা মাথায় একজন জিতেছেন, বাংলাদেশকে জিতিয়েছেন। তুলে ধরেছেন বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটা। তিনি আকবর আলী, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক।

তিনি যখন ক্রিজে আসেন বাংলাদেশের স্কোর তখন তিন উইকেট হারিয়ে ৬২। কিছুক্ষণ পরে সেটা চার উইকেটে ৬৫। ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়ে প্যাভিলিয়নে।

১৭৮ রান তখন পাহাড় সমান লক্ষ্য। শত চাপ কাঁধে নিয়ে দলকে টেনেছেন। অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে দেখেছেন শামীম হোসেন ও অভিষেক দাসও ফিরতি পথে হাঁটা ধরেছেন তাকে একলা রেখে।

তিনি কি ভাবছিলেন তখন, জানা নেই। একা কি করবেন ভাবছিলেন হয়ত। তার একাকীত্ব ঘোঁচাতেই যেন পায়ের ব্যথাকে অগ্রাহ্য করে ইমন নেমেছিলেন ব্যাট হাতে। লড়াই চালিয়েছেন সমানে সমানে।

ইমন যখন আউট হন, আবার একা হয়ে যাওয়া আকবর আলী লড়েছেন নিজের মত করে। রকিবুলকে সাথে নিয়ে খেলেছেন। তিনি জানতেন, হার মানা যাবে না। হারার আগে হেরে যাওয়া যাবে না কিছুতেই।

মাঝে ৩১ বলে কোনো রান নেননি। বুলেটের মতন ধেয়ে আসা প্রতিটি বল সামাল দিয়েছেন দক্ষ সেনানী হিসেবে। শেষ করেছেন ম্যাচ। বাংলাদেশকে করেছেন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।

তানজিম সাকিব, শামিম হোসেন, মাহমুদুল জয়, শরিফুল ইসলাম, রকিবুল হাসান, পারভেজ ইমনদের মত জীবন বাজি রেখে পাগলাটে ও খ্যাপাটে খেলোয়াড়দের ঠাণ্ডা মাথায় সামাল দিয়েই নিয়ে এসেছেন এতদূর, করেছেন স্বপ্নপূরণ।

হোক না যুব বিশ্বকাপ। তবুও বিশ্ব আসরের ওই সোনালী ট্রফিতে তো বাংলাদেশের ছোয়া পড়েছে। সেই স্বপ্নপূরণের কারিগর আকবর আলী, প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ও অধিনায়ক হিসেবে যার নাম লেখা থাকবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের উপন্যাসে।