ভাসানচরে যাচ্ছে না রোহিঙ্গারা


bdnews24 bangla newspaper, bangladesh news 24, bangla newspaper prothom alo, bd news live, indian bangla newspaper, bd news live today, bbc bangla news, bangla breaking news 24

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর আপত্তির কারণেই আপাতত কক্সবাজারের শিবির থেকে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গাকে নোয়াখালীর ভাসানচরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার কথা ভাবছে সরকার।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন গত ২৩ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) রায়ের পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে পাঠিয়ে সমালোচনার মুখে পড়তে চায় না সরকার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, ভাসানচরে জাতিসংঘের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সাহায্য সংস্থার জন্য দপ্তর নির্মাণের কথাও বলেছে উন্নয়ন সহযোগীরা। ভাসানচরকে নিরাপদ ও বাসোপযোগী করতে যে ৫৫টি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত সরকার তার ৪৫টি নিশ্চিত করতে পেরেছে। এই অবস্থায় সব কাজ শেষ না করে রোহিঙ্গাদের সেখানে পাঠানো ঠিক হবে না।

নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ৩১২ কোটি টাকা ব্যয়ে রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য ভাসানচরের প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে সরকার। জোয়ার–জলোচ্ছ্বাস থেকে এই চরের ৪০ বর্গকিলোমিটার এলাকা রক্ষা করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ তৈরি করেছে। এক লাখ রোহিঙ্গার জন্য সেখানে ১২০টি গুচ্ছ গ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের এক সভায় ভাসানচরের জন্য নেওয়া প্রকল্পের খরচ ৭৮৩ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা করা হয়েছে। বাড়তি টাকা ভাসানচর রক্ষাকারী বাঁধের উচ্চতা বাড়ানো, আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা, জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের জন্য ভবন ও জেটি নির্মাণে খরচ হবে। বরাদ্দ বাড়ার ফলে ভাসানচর রক্ষাকারী বাঁধের উচ্চতা ১০ ফুট থেকে বাড়িয়ে ১৯ ফুট করা হবে।

রোহিঙ্গা  প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য গত বছরের সেপ্টেম্বরে মধ্যস্থতা করার ঘোষণা দিয়েছিল চীন। ওই মাসেই নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে জাতিসংঘের মহাসচিবের উপস্থিতিতে তিন দেশের (বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও চীন) কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কমিটি হয়। প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমারকে কী কী কাজ করতে হবে, সে বিষয়ে সুপারিশ করার কথা ওই কমিটির।  তবে চীন বারবার চেষ্টা করেও মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের কক্সবাজারে নিতে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুতে ঢাকায় পররাষ্ট্র, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় এবং মিয়ানমার দূতাবাসের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠকের আয়োজন করেছিল চীন। শেষ পর্যন্ত ওই বৈঠকেও আসেননি মিয়ানমারের প্রতিনিধি।