আপাতত পায়রাবন্দরে পানির গভীরতা কম থাকায় এলএনজি টার্মিনাল তৈরি সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে জাপানি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান—টোকিও গ্যাস ইঞ্জিনিয়ারিং সলুশনস করপোরেশন (টিজিইএস) ও নিপ্পন কোই কোম্পানি (এনকে)।
গত সপ্তাহে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন সংক্রান্ত এক পর্যালোচনা সভায় তারা জানিয়েছে এই মুহূর্তে পায়রায় এলএনজি টার্মিনাল তৈরি সম্ভব নয়।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান দুইটি বলছে, পটুয়াখালীর পায়রাবন্দর এলাকায় ল্যান্ড বেইজড এলএনজি টার্মিনাল তৈরির জন্য চ্যানেলের ন্যূনতম গভীরতা ১২ মিটার না থাকায় বর্তমানে সেখানে টার্মিনাল তৈরি সম্ভব হবে না। তবে, পায়রাবন্দর এলাকার রাবনাবাদ চ্যানেল কস্ট শেয়ারিংয়ের ভিত্তিতে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে টার্মিনাল তৈরি করা যেতে পারে।
পায়রাবন্দর কর্তৃপক্ষ গত বছর বেলজিয়ামের একটি কোম্পানির সঙ্গে বন্দরের রামনাবাদ চ্যানেলের খনন কাজের চুক্তি করে। ওই চুক্তিতে বন্দরে ১২ মিটার গভীরতা সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। এখন বন্দর চ্যানেলে সাড়ে চার মিটার থেকে আট মিটার গভীরতা রয়েছে।
ফলে বন্দরে সাড়ে চার মিটার গভীরতায় বড় জাহাজ আসতে পারে না। এলএনজি টার্মিনালের জন্য ১২ থেকে ১৬ মিটার গভীরতার প্রয়োজন, যা পায়রাবন্দরে নেই।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দুটি বন্দর রয়েছে। পায়রা ছাড়া অন্য বন্দরটি হচ্ছে মোংলা। মোংলায়ও গভীরতা সংকট রয়েছে। মোংলায় সর্বোচ্চ ৭ থেকে আট মিটার গভীরতায় জাহাজ আসতে পারে। ফলে এখানেও এলএনজি টার্মিনাল তৈরি সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ল্যান্ড বেইজ এলএনজি টার্মিনাল তৈরি আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে শেষ করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছিলেন। নির্দেশনা অনুযায়ী কক্সবাজারের কুতুবদিয়া ও পটুয়াখালীর পায়রাবন্দর এলাকায় এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট বা আগ্রহপত্র আহ্বান করা হয়। দশটি প্রতিষ্ঠান দরপ্রস্তাব জমা দেয়। দরপ্রস্তাব মূল্যায়ন করে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। এরপর তাদের রিকোয়েস্ট ফর প্রপোজাল বা অনুরোধপত্র তৈরি করতে বলা হয়। অন্যদিকে, পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হিসেবে জাপানের কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা হয়। কোম্পানির প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উঠে এসেছে। এখন উচ্চপর্যায় সিদ্ধান্ত নেবে, তারা কী করবে।
উল্লেখ্য যে, পদ্মার ওপারে খুলনা ও বরিশাল অঞ্চল মিলিয়ে ২১টি জেলার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ২০১৬ সালে একটি স্থায়ী লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল তৈরির উদ্যোগ নেয় সরকার।

