বড় হওয়ায় পর বাবা মায়ের কাছে ছোটবেলায় করা নিজেদের নানান জেদের গল্প আমরা শুনেছি। আবার এখনো অনেক কিছু নিয়ে জেদ করি। কিন্তু বৃদ্ধ বয়সে আস্ত একটি বাড়ি নিয়ে জেদ করেছেন, আজ এমন একজনের গল্প বলা যাক।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনের সিয়াটেলে অবস্থিত বিশাল একটি শপিং মলের মাঝখানে ফাকা জায়গাটিতে বিচিত্র গল্প নিয়ে দাড়িয়ে আছে ছোট একটি বাড়ি। আজ সেই বাড়ির গল্পই বলব।
৮৪ বছর বয়সে এসে এডিথ মেইস্ফিল্ড দেখলেন আশেপাশের সবকিছু পুনঃসংস্কার করা হচ্ছে। পুরনো বাড়িগুলোর জায়গায় বুটিক শপ ও রেস্টুরেন্টগুলোর জায়গায় যুগ্ম মালিকানার এপার্টমেন্ট স্থান করে নিচ্ছে।
একসময় ডেভেলপাররা তার ছোট বাড়ির দরজায়ও কড়া নাড়লেন। তারা প্রস্তাব দিলেন যে, মেইস্ফিল্ডের বাড়িটি ভেঙে একটি শপিং মল তৈরি করতে চান। আর তখন তিনি বাড়ি বিক্রির জন্য না করে দিলেন। এমনকি বাড়ি বিক্রির জন্য মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবও তাকে টলাতে পারেনি।
এ অবস্থায় বাড়িটির চারপাশে মল তৈরি করা ছাড়া ডেভেলপারদের আর কোনো উপায় ছিল না । শপিং মল গড়ে ওঠার পর মেইস্ফিল্ড কন্সট্রাকশনের প্রধান ব্যারি মারটিনের সাথে মোটামুটি রকমের বন্ধুত্ব গড়ে তুললেন। ব্যারি মেইস্ফিল্ডের দেখাশুনা করা, তার ঔষধ কিনে দেয়া, বাজার করে দেয়ার মত কাজগুলো করতেন। একটা সময় দেখা গেল এই জেদী মহিলার সাথে তার এক প্রকার বন্ধন তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে একদিন তিনি খেয়াল করলেন মেইস্ফিল্ডের ওজন বাড়ছে না। তিনি মেইস্ফিল্ডকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেন এবং জানতে পারলেন যে তার অগ্নাশয় ক্যান্সার হয়েছে।
অবশেষে ৮৭ বছর বয়সে মেইস্ফিল্ড যখন মারা গেলেন, তিনি তখন সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত কিছু করে গেলেন। দেখা গেল, তিনি তার ছোট্ট বাড়ি ব্যারির নামে উইল করে দিয়েছেন।
বর্তমানে ১৫৫০ বর্গফুটের এই বাড়িটি স্থানীয় আবাসন এজেন্ট পল থমাসের মালিকানাধীন। বাড়ি, অফিস, যাদুঘর কিংবা ব্যালার্ড ব্লকে বেষ্টিত কমপ্লেক্সের অতিরিক্ত সংযোজন হিসেবে ব্যবহার করা যাবে এ বাড়িটি।
কথিত আছে এই বাড়ির গল্প নিয়েই পিক্সারের আপ সিনেমাটি নির্মিত হয়েছিল। তবে এই ছোট বাড়িটি আপ সিনেমার সত্যিকারের অনুপ্রেরণা ছিল কিনা, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এডিথ মেইস্ফিল্ডের গল্পটি সিয়াটেলের সবার কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে রয়েছে। মেইস্ফিল্ড সেখানকার জনগনের কাছে হিরো হয়ে উঠেছেন। এমনকি সিয়াটেলের বাসিন্দারা এখনো তাদের শরীরে এই ছোট বাড়িটির ট্যাটু আঁকে। মেইস্ফিল্ডের এই প্রতিবাদী আচরণকে ঘিরে সেখানে একটি গানের উৎসবও করা হয়।

