রাজধানীর খিলগাঁওয়ে দুই মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মা আখতারুন্নেসা পপি। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়।
ঢামেকের বার্ন ইউনিটের অবজারভেশন কক্ষে পপি নিজ সন্তানদের হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দেন। বলেন, গত রাত (শুক্রবার দিবাগত) আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে ঘুমন্ত দুই শিশু জান্নাতুল ও মেহজাবিনকে প্রথমে আগুনে পুড়িয়ে ও পরে বঁটি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করি। মা হয়ে কেনো এমন কাজ করলেন জানতে চাইলে পপি বলেন, সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পারছিলাম না। সংসার চালানো যাচ্ছিল না। স্বামী সংসার খরচ দিতো মাত্র ১ হাজার ১০০ টাকা। এ হতাশা নিয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে দুই সন্তানকে খুন ও নিজে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন, বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন শিশুদের বাবা। রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ গোড়ানের মোল্লা ভবনের ৪ তলার একটি ফ্ল্যাটে বাবা-মার সঙ্গে থাকতো ছোট্ট দুই শিশু মেহজাবিন ও জান্নাতুল। ১১ বছর বয়সী মেহজাবিন ন্যাশনাল আইডিয়াল কলেজে চতুর্থ আর ৭ বছর বয়সী জান্নাতুল প্রথম শ্রেণিতে পড়তো।
শনিবার (০৭ মার্চ) সকালে বাবা-মার দাম্পত্য কলহের জেরেই প্রাণ হারাতে হয় এ দুই শিশুকে। সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণপদ রায় এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে হতাশ হয়ে দুই শিশুকে হত্যার পর নিজে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন মা।

