পৃথিবীর কোন দেশেই লিঙ্গ সমতা নেই জাতিসংঘের ‘জেন্ডার সোশ্যাল নর্ম’ সূচকে উঠে এসেছে এমন তথ্য। গত বৃহস্পতিবার সংস্থাটি এমনই একটি জরিপের তথ্য প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়েছে, ৯০ শতাংশ নারী-পুরুষেরই নেতিবাচক মনোভাব রয়েছে নারীর প্রতি। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৯০ জনই নারীর প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন।
শুক্রবার (৬ মার্চ) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ খবর জানিয়েছে ।
সূচকে দেখা গেছে, চাকরির ক্ষেত্রে নারীদের চেয়ে নিজেদের অধিকার বেশি বলে মনে করেন বিশ্বের ৫০ শতাংশ পুরুষ। ৪০ ভাগ মানুষ মনে করেন, নারীর চেয়ে পুরুষরা ভালো ব্যবসায়িক নির্বাহী হতে পারেন। পুরুষ তার নারী সঙ্গীকে আঘাত করা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ। প্রকৃতপক্ষে দুনিয়ার কোনো দেশেই লিঙ্গ সমতা নেই-এমনটাই উঠে এসেছে জাতিসংঘের এই সূচকে।
এদিকে লিঙ্গবৈষম্যের শীর্ষে রয়েছে জিম্বাবুয়ে। সেখানে নারীর প্রতি সহিংসতাকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করেন ৯৬ শতাংশ মানুষ। নারীর প্রজনন অধিকারের প্রতিও সমর্থন দিতে রাজি নন তারা। একই মনোভাব পোষণ করেছেন ফিলিপাইনের ৯১ শতাংশ মানুষ।
তবে, লিঙ্গ সমতার ক্ষেত্রে দেশটির অবস্থান শীর্ষে ইউরোপের দেশ অ্যান্ডোরা। ফ্রান্স ও স্পেনের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত দেশটির ৭২ শতাংশ মানুষ কোনো পক্ষপাতমূলক মনোভাব দেখাননি।
সূচকে দেখা গেছে, রাজনীতিতেও বৈষম্যের শিকার নারীরা। পৃথিবীর ১৯৩টি দেশের মধ্যে মাত্র ১৯টিতে নারীরা সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থাৎ নারী সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের হার মাত্র ১০ শতাংশ। ১৯৩টি দেশের মধ্যে মাত্র ১৯টিতে নারীরা সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন করছেন।
দুনিয়াজুড়ে জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেক মানুষই মনে করেন, নেতা হিসেবে পুরুষরাই যোগ্য। পুরুষ নেতৃত্বে আস্থা রয়েছে চীনের ৫৫ ভাগ মানুষের। আর যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এ হার ৩৯ শতাংশ। তবে কখনো নারী প্রেসিডেন্ট পায়নি দেশটি। গত নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রার্থী হলেও নির্বাচনে ট্রাম্পের কাছে পরাজিত হন সাবেক এ ফার্স্টলেডি।
নিউজিল্যান্ডের ২৭ ভাগ মানুষ পুরুষ নেতৃত্বে আস্থাশীল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা অরডার্ন একজন নারী।
চাকরির ক্ষেত্রে নারীদের চেয়ে পুরুষদের অধিকার বেশি- এমন মনোভাব পোষণ করেন যুক্তরাজ্যের ২৫ ভাগ মানুষ। ভারতে এ হার ৬৯ শতাংশ। ভালো ব্যবসায়িক নির্বাহী হিসেবেও পুরুষদের প্রতিই আস্থাশীল তারা।

