সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে ভৌগোলিক সীমারেখা মানে না। এর অন্যতম উদাহরণ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাস। এ ধরনের সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিশ্বের সব দেশেরই জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি অবস্থা প্রতিরোধ, শনাক্ত ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের সক্ষমতা থাকা প্রয়োজন। যদিও গবেষণার তথ্য বলছে, মহামারী মোকাবেলায় যথেষ্ট সক্ষমতা নেই বাংলাদেশের।
বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে তৈরি গ্লোবাল হেলথ সিকিউরিটি (জিএইচএস) বা বৈশ্বিক স্বাস্থ্যনিরাপত্তা সূচক অনুযায়ী, জরুরি স্বাস্থ্য অবস্থা মোকাবেলায় দুর্বল অবস্থানে থাকা দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। সার্বিকভাবে স্বাস্থ্যনিরাপত্তায় ৩৫ স্কোর নিয়ে তালিকার ১৯৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৩তম।
দি ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিট জিএইচএস সূচকটি তৈরি করেছে। সূচকের ভিত্তিতে সম্প্রতি ‘জিএইচএস ইনডেক্স: বিল্ডিং কালেক্টিভ অ্যাকশন অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবিলিটি’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ ও জন হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অব পাবলিক হেলথের সেন্টার ফর হেলথ সিকিউরিটি।
প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিতে প্রত্যেক দেশেরই নিজ নিজ সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ছয়টি বিষয়কে কেন্দ্র করে সামগ্রিক সূচকটি তৈরি করা হয়েছে। এগুলো হলো প্রতিরোধ, শনাক্ত ও প্রতিবেদন, দ্রুত সাড়া প্রদান, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ ও ঝুঁকি পরিস্থিতি। এসব মানদণ্ড যাচাইয়ে ৩৪টি নির্দেশক ব্যবহার করা হয়েছে, যেগুলোর অধীনে ছিল ৮৫টি উপনির্দেশক।
১৪০টি প্রশ্নের মাধ্যমে এসব তথ্য সংগৃহীত হয়েছে। প্রতিটি প্রশ্নের হ্যাঁ সূচক উত্তরের জন্য ১ ও না সূচক উত্তরের জন্য শূন্য নম্বর রাখা হয়। ছয়টি মানদণ্ডের প্রতিটিতে প্রাপ্ত নম্বরকে ওই মানদণ্ডের জন্য নির্দিষ্ট ভার অনুযায়ী হিসাব করা হয়। এরপর সামগ্রিক নম্বর বা স্কোরের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয় সংশ্লিষ্ট দেশের অবস্থান।
মহামারী প্রতিরোধ সক্ষমতায় সবচেয়ে এগিয়ে থাকা ১২টি দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্কোর ৮৩দশমিক ১। এছাড়া প্রতিরোধ সক্ষমতায় এগিয়ে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে সুইডেন, থাইল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফিনল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও স্লোভেনিয়া। ভালো প্রস্তুতি রয়েছে এমন দেশেরসংখ্যা ৭৯। মহামারী প্রতিরোধে সামান্যই সক্ষমতা থাকা দেশগুলোর কাতারে বাংলাদেশ অন্যত
প্রতিটি দেশের অবস্থান প্রকাশ করা হয়েছে শূন্য থেকে ১০০ স্কেলে। বেশি স্কোর সংশ্লিষ্ট মানদণ্ডে দেশটির ভালো অবস্থান নির্দেশ করে।
তাত্ক্ষণিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা, দ্রুত শনাক্ত ও সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক উদ্বেগসংক্রান্ত প্রতিবেদন তৈরি, মহামারীর ব্যাপ্তি কমানো ও তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, রোগীদের চিকিৎসার সুব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যকর্মীর সুরক্ষা, জাতীয় সক্ষমতা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি ও জৈব হুমকির বিপরীতে সংশ্লিষ্ট দেশের ঝুঁকি পরিস্থিতি—এসব বিবেচনায় নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

