পদ্মাসেতুর ২৬তম স্প্যান ‘৫-ডি’ ২৮ ও ২৯ নম্বর পিলারের উপর বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হলো ৩ হাজার ৯০০ মিটার (৩.৯ কিলোমিটার)।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ৯টার দিকে স্প্যানটি বসানো শেষ হয়। দেশি-বিদেশি প্রকৌশলীদের চেষ্টায় সফলভাবেই স্প্যানটি বসানো সম্ভব হয়েছে।
২৫তম স্প্যান বসানোর ১৮ দিনের মাথায় ২৬ তম স্প্যানটি বসানো হলো। একের পর এক স্প্যান বসিয়ে এভাবেই স্বপ্নের পদ্মাসেতু নির্মাণ হচ্ছে।
ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চল থেকে পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে যাওয়ার এ স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নেবে আর ১৫টি স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে। সোমবার (৯ মার্চ) স্প্যানটিকে ভাসমান ক্রেন বহন করে নিয়ে আসে।
সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল কাদের বলেন, ভাসমান ক্রেনটি নোঙর করে পজিশনিং করে ইঞ্চি ইঞ্চি মেপে স্প্যানটিকে তোলা হয় পিলারের উচ্চতায়।
এরপর দুই পিলারের বেয়ারিংয়ের ওপর রাখা হয় স্প্যানটিকে। খুঁটিনাটি বিষয়গুলো আগে থেকেই বিশেষজ্ঞ প্যানেল দ্বারা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
ইতোমধ্যে পদ্মাসেতুর ৪২টি পিলারের মধ্যে ৪০টি পিলারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকি দুইটি পিলারের কাজ শেষ হবে এপ্রিল মাসে।
চীন থেকে আসা দুইটি স্প্যানসহ মোট ৩৯টি স্প্যান এখন মাওয়ায় আর বাকি দুইটি আসার অপেক্ষায়। পুরো সেতুতে ২ হাজার ৯৩১টি রোডওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে। আর রেলওয়ে স্ল্যাব বসানো হবে ২ হাজার ৯৫৯টি।
জানা গেছে, সেতুর ৫, ৬, ৭, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২১, ২২, ২৩, ২৪, ২৫, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১,৪২ নম্বর পিলারে বসেছে ২৫টি স্প্যান। স্প্যান বসানো বাকি পিলারগুলো হলো-১, ২, ৩, ৪, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ২০, ২৬, ২৭, ২৮ নম্বর।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদী শাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।
৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো।

