দেশে তিন জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ায় মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পুনর্বিন্যস্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল আগেই। নতুন এই অনুষ্ঠান কেমন হবে, এবার তা জানিয়েছে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি।
ভিন্নমাত্রার এই আয়োজন হবে সীমিত পরিসরে। তবে তা ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী প্রচার করা হবে। অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, মুজিববর্ষের ক্ষণগণনা শুরুর পর সমগ্র জাতির মাঝে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর উদ্বোধন অনুষ্ঠান সম্পর্কে উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছিল। জনগণের সম্পৃক্ততার আগ্রহকে বিবেচনায় রেখে পরিবর্তিত বিশ্ব-পরিস্থিতিতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ভিন্নমাত্রায় পরিবেশিত হবে।
জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে অনুষ্ঠান না হলেও ১৭ মার্চ বর্ণাঢ্য আয়োজনের পরিকল্পনা ঠিক রাখা হচ্ছে। ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা ব্যাপ্তির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ধারণ করে বা লাইভ প্রোগ্রামের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে প্রচার করা হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির বাণী, জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মদিবসটি জাতীয় শিশু দিবস হওয়ায় শত শিশুর কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের পরিবেশনা থাকবে।
এছাড়া শত শিল্পীর পরিবেশনায় যন্ত্রসংগীত, মুজিববর্ষের থিম সং, বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মকে তুলে ধরে একটি থিয়েট্রিক্যাল পারফরম্যান্স ও বিশ্বখ্যাত কোরিওগ্রাফার আকরাম খানের পরিবেশনাও থাকবে এই প্রোগ্রামে। অনুষ্ঠানটি প্রচারের সময় পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।
অনুষ্ঠান কমিটির বৈঠকে ১৭ মার্চ রাত ৮টায় বঙ্গবন্ধুর জন্মক্ষণ আতশবাজির মাধ্যমে স্মরণের পরিকল্পনাও রাখা হয়েছে। এছাড়াও দিবসটি স্মরণে আলোকসজ্জা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সীমিত আকারে আনন্দ অনুষ্ঠান এবং মিষ্টি বিতরণ করা হবে।
এর আগে, জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে মুজিববর্ষের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল সরকার। একলাখ মানুষের উপস্থিতিতে সেই আয়োজনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আনার পরিকল্পনা হয়েছিল।
তবে গত রোববার (৮ মার্চ) দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাওয়ায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পুনর্বিন্যাসের ঘোষণা দেয় জাতীয় কমিটি। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন বাস্তবায়ন কমিটি এবং জাতীয় কমিটির এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

