যুব মহিলা লীগ নেত্রী (বহিষ্কৃত) শামীমা নূর পাপিয়া-সুমন দম্পতি ও তাদের দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে করা দুই মামলার তদন্তভার পেয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনক্রমে বিমানবন্দর ও শেরেবাংলা নগর থানার তিন মামলার মধ্যে দুটি মামলার তদন্ত পেল র্যাব।
দেশ ছেড়ে পালানোর সময় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে র্যাবের হাতে দুই সহযোগীসহ আটক হন পাপিয়া দম্পতিসহ চারজন। মামলার পরই সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে। পরে মামলাগুলোর তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি)।
র্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শফিউল্লাহ বুলবুল বলেন, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন করে আরও ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করব আদালতে। গ্রেফতার ও মামলা হওয়ার পর তদন্তের অনুমতি চেয়ে র্যাবের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়।
দুই মামলার তদন্তের অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লে. কর্নেল সারওয়ার-বিন-কাশেম বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পাপিয়া, তার স্বামী ও তাদের দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে করা দুটি মামলা এখন থেকে র্যাব তদন্ত করবে।
এর আগে র্যাব-১ এর অধিনায়ক শফিউল্লাহ বুলবুল জানান, র্যাবের পক্ষ থেকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। অনুমতি পেলে র্যাব তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন করে রিমান্ডের আবেদন করবে।
পাপিয়া দম্পতির নানা অপকর্ম নিয়ে র্যাবের আরেক কর্মকর্তা বলেন, এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়ার পর পাপিয়া ও তার সহযোগীদের ব্যাপারে অনেক আগে থেকেই র্যাব খোঁজখবর নিচ্ছিল। অভিযোগের বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের একটি প্রোফাইলও তৈরি করা হয়। ওই প্রেফাইলটি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে দাখিল করা হয়।
পরে উপর মহলের সবুজ সংকেত মিললে শুরু হয় গ্রেফতার প্রক্রিয়া। বিষয়টি টের পেয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দেশত্যাগের সময় পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রেফতার করে র্যাব। গ্রেফতার অন্যরা হলেন- পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান সুমন (৩৮), সাব্বির খন্দকার (২৯) ও শেখ তায়্যিবা (২২)।
এ সময় তাদের কাছ থেকে ৭টি পাসপোর্ট, নগদ দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ টাকার জাল মুদ্রা, ১১ হাজার ৯১ ইউএস ডলারসহ বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জব্দ করা হয়।
পরে ফার্মগেটে ২৮ নম্বর ইন্দিরা রোডের রওশন’স ডমিনো রিলিভো নামক বিলাসবহুল ভবনে তাদের দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, ৫ বোতল বিদেশি মদ ও নগদ ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, পাঁচটি পাসপোর্ট, তিনটি চেক, বিদেশি মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি ভিসা ও এটিএম কার্ড জব্দ করে র্যাব।

