বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য এবং বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে করা এক বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে নড়াইলে দায়ের হওয়া মামলায় খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিন দেন হাইকোর্ট।
এরপর বিকেলে ওই জামিন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে আগামী এপ্রিল মাসে এ বিষয়ে জারি করা রুলের উপর শুনানি করা হবে বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে হাইকোর্টের বিচারপতি আবু জাফর সিদ্দিকী ও বিচারপতি এএসএম আব্দুল মবীনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ স্থায়ী জামিন দিয়ে বিকেলে তা প্রত্যাহার করে নেন।
এসময় খালেদা জিয়ার শুনানি করেন এ জে মোহাম্মদ আলী।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ঢাকায় মুক্তিযোদ্ধাদের একটি সমাবেশে খালেদা জিয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাধীনতা যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বির্তক আছে বলে মন্তব্য করেন।
এছাড়া একই সমাবেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম উল্লেখ না করে তাকে (বঙ্গবন্ধু) ইঙ্গিত করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘তিনি স্বাধীনতা চাননি। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হতে চেয়েছিলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ চাননি।’
তার এই বক্তব্য বিভিন্ন সংবাদপত্র ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার হয়। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে মামলা করেন নড়াইলের জেলা পরিষদের ১নং ওয়ার্ড সদস্য ও নড়াগাতি থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রায়হান ফারুকী ইমাম। পরে তিনি ২৪ ডিসেম্বর (২০১৫) খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নড়াইল সদর আমলি আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে নড়াইলের আদালতে ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর দুপুরে আরও একটি মানহানির মামলা দায়ের করা হয়।
এছাড়া শহীদ বুদ্ধিজীবীদের সম্পর্কে বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগে ওই দিনই (২৯ ডিসেম্বর) বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের নামেও একটি মানহানির মামলা দায়ের করা হয়।

