বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর সম্মিলিতভাবে কাজ করার জন্য তহবিল গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছে ভারত।
প্রস্তাবিত তহবিলে ভারত এক কোটি মার্কিন ডলার দেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
আজ (রোববার) বিকেলে এক ভিডিও কনফারেন্সে ‘কোভিড-১৯ মোকাবিলায় করণীয় ও গৃহীত পদক্ষেপ’ নিয়ে আলোচনা করেন সার্কভুক্ত আট দেশের শীর্ষ নেতারা। এসময় নরেন্দ্র মোদি জানান, ভারত এক কোটি মার্কিন ডলার দেবে। সার্কভুক্ত যে কোনো দেশ এ তহবিল ব্যবহার করতে পারবে। ভারতের পররাস্ট্র সচিব এ তহবিল ব্যবস্থাপনা করবেন।
সার্কভুক্ত শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ সঙ্কটপূর্ণ সময়ে আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিভ্রান্তি নয়, সমন্বয় আতঙ্ক নয়, প্রস্তুতি- এ মূলমন্ত্র নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। কোভিড-১৯ শনাক্ত করার যন্ত্র ও অন্য সরঞ্জামসহ চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে আমরা র্যাপিড রেসপন্স টিম গঠন করছি। সেসব প্রস্তুত থাকবে, আপনাদের প্রয়োজন হলে, তা সরবরাহ করা হবে। প্রয়োজনে অনলাইনে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর প্রভাব আমাদের অর্থনীতিতেও পড়ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের বাণিজ্য। এ ক্ষতি সামলাতে কী করণীয় সে বিষয়ে এখনই আমাদের বিশেষজ্ঞদের চিন্তা করতে হবে। এ অঞ্চলের বাণিজ্য থেকে কোভিড-১৯ এর প্রভাব কাটাতে সার্কভুক্ত দেশগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’
এদিকে, সার্কভুক্ত দেশের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে ভিডিও কনফারেন্স আয়োজনের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্মিলিতভাবে এ মহামারি মোকাবিলা করে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
ভিডিও কনফারেন্সে ঢাকা থেকে যুক্ত হওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, এ মহামারি মোকাবিলায় সার্কভুক্ত দেশগুলোকে সহযোগিতা ও সমন্বিত হয়ে কাজ করতে হবে। সমন্বয় করতে হবে আমাদের সম্মিলিত সামর্থ্য, অভিজ্ঞতা ও সম্পদ। লজিস্টিক সাপোর্টসহ সক্ষমতা, অভিজ্ঞতা এবং কার্যক্রম সার্কভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে বিনিময় করতে আমরা প্রস্তুত বলে জানান শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা বলেন, এই ভাইরাস মোকাবিলায় বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সঙ্গে তার স্বাস্থ্য জ্ঞান এবং এ সংক্রান্ত সরঞ্জাম ভাগাভাগি করতে প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনে আমরা যেমন ভিডিও কনফারেন্স করছি, সার্কভুক্ত দেশগুলোর স্বাস্থ্য সচিবরাও এমন ভিডিও কনফারেন্স করতে পারেন। সেই কনফারেন্সে প্রয়োজনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক বিশেষজ্ঞও থাকতে পারেন। সার্ক অনুমোদন করলে বাংলাদেশে এমন প্রোগ্রাম আয়োজন করতে প্রস্তুত আছে।

