প্রাইজবন্ড হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর কর্তৃক প্রবর্তিত এক প্রকার কাগুজে মুদ্রা।
বিষয়টা অনেকটা লটারির মতো তবে পার্থক্য আছে। তবে লটারি ‘ড্র’ হয়ে গেলে সেটার আর মেয়াদ থাকে না এবং লটারিটির মূল্যও থাকে না অর্থাৎ লটারিতে না জিতলে পুরো টাকাটা লস। কিন্তু প্রাইসবন্ড ‘ড্র’ হয়ে যাওয়ার পরও এর মেয়াদ শেষ হয় না। পরবর্তী ‘ড্র’ এর সময়ও এর মেয়াদ থাকে।
আসুন এই প্রাইজবন্ড নিয়ে জেনে নেই কিছু তথ্য;
কবে চালু হয়:
বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে প্রাইজবন্ড সর্বপ্রথম চালু হয় ১৯৭৪ সালে। প্রথম চালুকৃত প্রাইজবন্ডের মূল্যমান ছিল ১০ ও ৫০ টাকা। ১৯৯৫ সালে ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড চালু হওয়ার পর থেকে ১০ ও ৫০ টাকা মূল্যমানের প্রাইজবন্ড তুলে নেওয়া হয়।
কোথায় ছাপানো হয়:
বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান সিকিউরিটি প্রিন্টিং কর্পোরেশন বাংলাদেশ লিমিটেডের (এসপিসিবিএল) গাজীপুরে অবস্থিত কারখানা থেকে প্রাইজবন্ড ছাপানো হয়।
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য কি:
সমাজের সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে সঞ্চয় প্রবণতা বৃদ্ধির জন্য সরকার জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর এর মাধ্যমে সরাসরি জনগণের কাছ থেকে ঋণ সংগ্রহ করে প্রাইজবন্ড বিক্রয় করার মাধ্যমে এবং সরকার তা আবার কিনে নিয়ে সে ঋণ পরিশোধ করে। এ বন্ড ক্রয় করে গ্রাহক তার ব্যক্তিগত লাভের পাশাপাশি দেশ গড়ার কাজেও নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে।
প্রাইজবন্ডের রশিদ কি:
প্রাইজবন্ডের রশিদ ইহা আলাদা কোন ক্যাশ মেমো বা ভাউচার নয়। প্রাইজবন্ডের উপর বাংলাদেশ ব্যাংকের যে সিল দেয়া থাকে তাকেই রশিদ বলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিল না থাকলে সেই প্রাইজবন্ড কখনো পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হবে না।
প্রাইজবন্ডের সিরিজ কি?
বাংলাদেশে বর্তমানে ৫৫টি সিরিজ চালু আছে যেমন কক, কখ, কগ, খখ..ইত্যাদি। একই নম্বর ৫৫টি সিরিজের প্রতিটিতে আছে। প্রথম পুরস্কার পাবে প্রতিটি সিরিজের একজন করে অর্থাৎ ৫৫ জন, অনুরপ ভাবে ২য় পুরস্কার পাবে ৫৫ জন, ৩য় পুরস্কার পাবে ১১০ জন ৪র্থ পুরস্কার পাবে ১১০ জন এবং ৫ম পুরস্কার পাবে ২২০০ জন।

