করোনা মহামারিতে থমকে গেছে গোটা বিশ্ব। এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে এক হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। এক সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করতে হবে। এই লড়াই যেমন স্বাস্থ্য কর্মীদের, তেমনই এই লড়াই বায়োটেকনোলজিস্টদেরও। ২৫শে এপ্রিল ডিএনএ দিবস উপলক্ষে দেশের এই কঠিন অবস্থায় কিছু প্রস্তাবনা রাখেন নেটওয়ার্ক অব ইয়ং বায়োটেকনোলজিস্ট অব বাংলাদেশ।
প্রস্তাবনায় স্বাক্ষর করেন নেটওয়ার্ক অব ইয়ং বায়োটেকনোলজিস্ট অব বাংলাদেশের পরিচালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ড. আবু মুশতাক ইবনে আয়ূব, ড. এসএম মাহবুবুর রশিদ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার বিভাগের শিক্ষক ড. আদনান মান্নান। এছাড়াও স্বাক্ষর করেন নেটওয়ার্ক অব ইয়ং বায়োটেকনোলজিস্ট অব বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ আরিফ খান ও সংস্থাটির সিইও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাহমুদা কবির শাওন।
সংস্থাটির প্রস্তাবনায় ছিল, কভিড ১৯ এর জাতীয় নীতি নির্ধারক পরিষদে জীবপ্রযুক্তির কর্মকাণ্ডে অভিজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করা, বাংলাদেশের গবেষণায় ও শিক্ষকতার ক্ষেত্রগুলোতে বায়োটেকনোলজিস্টদের অন্তর্ভুক্ত করা, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বড় বড় খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠান থেকে গবেষণায় অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বায়োটেকনোলজিস্টদের জিনোম সিকুয়ালসহ বিভিন্ন গবেষণার পথ উন্মুক্ত করা ইত্যাদি।
জানা যায়, করোনা মোকাবেলায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার বানানো, স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পিপিই সরবরাহসহ বিভিন্ন সুরক্ষার কাজে আছে জীবপ্রযুক্তিবিদরা। এছাড়া নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের উদ্যোগে কভিড-১৯ পরিস্থিতি জানার জন্য উদ্ভাবন হয়েছে এপস।
আরো জানা যায়, দেশের বাইরে থাকা জীবপ্রযুক্তিবিদ রাশেদুল ইসলাম রনি এবং নেটওয়ার্ক অব ইয়ং বায়োটেকনোলজিস্ট অব বাংলাদেশ নিয়মিত অনলাইনের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের বিভিন্ন দিক তুলে ধরছেন।
নেটওয়ার্ক অব ইয়ং বায়োটেকনোলজিস্ট অব বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনন্ত ৫০ জন বা তারও অধিক শিক্ষার্থী জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যয়নরত আছেন। দেশের কল্যানে তারা সরকার ঘোষিত কোনো প্রণোদনা ছাড়াই করোনা মোকাবেলায় কাজ করে যাচ্ছেন।
এছাড়া, দেশের বিভিন্ন বায়োটেকনোলজি বিভাগ থেকে আটটি গবেষণামূলক কর্মকাণ্ড সম্পন্ন হয়েছে বলেও জানা যায়। যার মধ্যে বেশকিছু গবেষণা আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৫৩ সালের ২৫শে এপ্রিল জেমস ওয়াটসন ও ফ্রান্সিস কিক নামের দুইজন বিজ্ঞানী মানুষসহ বিশ্বের সকল জীবের জীবন রহস্য ধারণকারী ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র যোগের গাঠনিক বিন্যাস আবিস্কার করেন। যা, ডিএনএ নামে পরিচিত। এরপর ২০টি দেশের বিজ্ঞানীদের যৌথ প্রচেষ্টায় ১৩ বছরের গবেষণার পর ২০১৩ সালের সেই ২৫শে এপ্রিলেই, জিনোম সিক্যুয়েল আবিস্কার হয়। সেদিন থেকে প্রতিবছর এই ২৫শে এপ্রিল আন্তর্জাতিক ডিএনএ দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

