এবার কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী কতৃক স্থানীয় এক কৃষককে অপহরণ করে হত্যায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে গ্রামবাসীরা। সেইসাথে বিক্ষুদ্ধ গ্রামবাসীরা নিজেদের নিরাপত্তা রক্ষায় দ্রুত মিয়ানমারের এই সব রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে পাঠানোর দাবি জানিয়েছে।
এবং সাগরে ভাসমান রোহিঙ্গাদের কোনোভাবেই বাংলাদেশে ঢুকতে না দিতেও স্থানীয়রা দাবি জানিয়েছেন।
রোহিঙ্গা সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা একজন বাংলাদেশি নিরীহ কৃষককে হত্যার পর সেই আস্তানার পাহাড় থেকেই বাংলাদেশের আইন শৃংখলা রক্ষাকারী সংস্থার কর্মকর্তাদের গালাগাল দিচ্ছে। তারা হুমকি দিচ্ছে পুলিশি অভিযানের পাল্টা বদলা নেবে।
জানা গেছে, একদল সশস্ত্র রোহিঙ্গা টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনাবাজার পশ্চিম পাড়ায় ক্ষেতের ফসল পাহারায় নিয়োজিত অবস্থায় ছয়জন স্থানীয় কৃষককে অপহরণ করে।
রোহিঙ্গার দল নিজেদের আবদুল হাকিম ডাকাত বাহিনীর পরিচয় দিয়ে অপহরণের পর তাদের পশ্চিমের পাহাড়ে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে চালের বস্তা ও সিগারেটের বিনিমেয় তিনজনকে ছেড়ে দিলেও বাকি তিনজনকে আটকে রাখে।
এদিকে গতকাল সকাল থেকে টেকনাফ থানার পুলিশ পাহাড়ের সশস্ত্র রোহিঙ্গার ডেরায় অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশের সাথে স্থানীয় শতাধিক গ্রামবাসীও যোগ দেয়। এ সময় রোহিঙ্গারা পালিয়ে যায়।
এছাড়াও সশস্ত্র রোহিঙ্গারা পাহাড়ে ঘর বানিয়ে আস্তানা গেড়ে বসে। পুলিশ পাহাড়ের রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের আস্তানা গুড়িয়ে দেয়। পুলিশ ও গ্রামবাসী পাহাড়ের আস্তানা গুড়িয়ে চলে আসে। বৃহস্পতিবার রাতে আবদুল হাকিম ডাকাত পরিচয়ে অপহৃত কৃষক শাহেদের মাকে মোবাইল করে অভিযানের জন্য ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায়।
এমনকি মোবাইলে পুলিশ ও গ্রামাবাসীকে হত্যার হুমকি দেয়। এরপর আজ ভোররাতে অপহৃত তিনজনের একজনকে মাথায় গুলি মেরে হত্যা করে। হত্যার শিকার কৃষকের নাম আকতারুল্লাহ (২৫)।
গ্রামবাসীর সহযোগিতায় শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে টেকনাফের উনচিপ্রাং পাহাড়ি এলাকা নিহত কৃষকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সন্ত্রাসী রোহিঙ্গারা অপহৃত অপর দুই কৃষকের মুক্তির জন্য ২০ লাখ দাবি করে।
সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশ জানান, একটি লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে একদল পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে।
টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুদ্দিন জানিয়েছেন, গত মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে হোয়াইক্যং মিনাবাজার পশ্চিম ঘোনার ক্ষেতখামার থেকে সশস্ত্র রোহিঙ্গারা পাহাড় থেকে নেমে এসে ছয়জন গ্রামবাসীকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
তারা হলেন, কৃষক আবুল হাশেম ও তার দুই পুত্র জামাল এবং রিয়াজুদ্দিন, স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেনের পুত্র শাহেদ (২৫), মৌলভী আবুল কাছিমের পুত্র আকতারুল্লাহ (২৪) ও মৃত মোহাম্মদ কাশেমের পুত্র ইদ্রিস।

