নিজের নন্দাইয়ের (ননদের স্বামী) সাথে পরকীয়া প্রেমের জেরে এবার নিজের স্বামীকে শ্বাসরোধে হত্যা করলেন স্ত্রী ও প্রেমিক।
ঘটনাটি ঘটেছে পাবনা সদর উপজেলার গয়েশপুর ইউনিয়নের শালাইপুর গ্রামে। জানা যায়, নিহত মকল মালিথা (৫০) সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে তাঁতের কাজ করেন। তার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রী নাসিমা বেগম (৪০) নিজ ননদের স্বামী স্বপনের (৪৫) সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত হন। প্রায় তারা অবাধে মেলামেশা করতেন।
কিন্তু হঠাৎ দেশে করোনার কারণে স্বামী মালিথা বাড়িতে চলে আসেন। এতে করে নাসিমা বেগমের পরকীয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়ান তার স্বামী। একপর্যায়ে মালিথাকে দুনিয়া থেকে সরাতে স্ত্রী ও প্রেমিক মিলে পরিকল্পনা করেন। এরপর তারা শুক্রবার ভোরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন মালিথাকে।
এ ঘটনায় পুলিশ নিহতের স্ত্রী নাসিমা খাতুন ও তার প্রেমিক স্বপনকে আটক করেছে।
নিহত মকল মালিথা শালাইপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে এবং তার স্ত্রী নাসিমার প্রেমিক স্বপন একই এলাকার রমজান খন্দকারের ছেলে ও ডাক বিভাগের একজন কর্মচারী।
এ বিষয়ে পরিবারের বরাতে পাবনা থানা পুলিশের ওসি নাসিম আহম্মদ জানান, তাঁত শ্রমিক মকল মালিথা শাহজাদপুরে তাঁতের কাজ করতেন। এরই মধ্যে তার স্ত্রী নাসিমা নন্দাই (ননদের স্বামী) স্বপনের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। মকলের অনুপস্থিতিতে প্রেমিক স্বপনের সাথে নাসিমা অবাধে মেলামেশা করতে থাকেন। সম্প্রতি করোনা সংকট শুরু হলে মকল মালিথা বাড়ি আসেন। এতে স্ত্রী নাসিমা ও তার পরকীয়া প্রেমিকের কাছে বাধা হয়ে দাঁড়ায় মকল।
এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার ফজরের নামাজের সময় স্ত্রী নাসিমা তার প্রেমিকের সহায়তায় স্বামী মকলকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
খবর পেয়ে পাবনা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পুলিশ লাশের গলায় ও শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখতে পেয়ে সন্দেহ হলে স্ত্রী নাসিমাকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে প্রেমিক স্বপনকে আটক করে।
আটকের পর নাসিমা ও প্রেমিক স্বপন পুলিশের কাছে মকল হত্যার কথা স্বীকার করে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে মামলা করেন।
পাবনা সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান বলেন, স্ত্রী নাসিমা ও প্রেমিকের সাথে আরও কেউ ছিল না কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

