গেঞ্জির কাপড়ে তৈরি মাস্ক করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রচলিত মেডিকেল বা সার্জিক্যাল মাস্কের সমতুল্য বা এর চেয়েও বেশি কার্যকর বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিয়ন ইনিভার্সিটি।
গত ২৪ এপ্রিল ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যবিজ্ঞান সার্ভারের ওয়েবসাইটে শ্বাসযন্ত্রের মাধ্যমে নির্গত জলকনার (ড্রপলেটস) মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে হাতে বানানো মাস্কের কাপড়ের কার্যকারিতা সমীক্ষা শিরোনামের এই গবেষণাপত্র (www.medrxiv.org) প্রকাশিত হয়।
এর আগে ইউরোপ আমেরিকায় প্রথমে বলা হয়েছিল মুখোশ বা মাস্ক পরার দরকার নেই, কিন্তু পরে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল (সিডিসি) করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে মাস্ক পরার পরামর্শ দেয়।
এ গবেষণা দলের নেতা তাহের সাইফ বলেন, ‘আমরা দেখছি যে মাস্ক ব্যবহার ছাড়া করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব নয়। আর এত মাস্কের উৎপাদনও সম্ভব নয়। মাস্কের মূল কাজটা হলো হাঁচি-কাশির মাধ্যমে থুতু বা শরীর থেকে যে ড্রপলেটস বের হয়ে আসে, তা ঠেকানো এবং একই সঙ্গে শ্বাসপ্রশ্বাস যাতে নেওয়া যায়, সে ব্যবস্থা রাখা। খুব সাধারণ বিজ্ঞানের প্রয়োগ করে এই গবেষণা চালানো হয়েছে। বিশেষ অনুমতি নিয়ে গত মার্চ মাসের শেষ দিকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাব খুলে এই গবেষণা শুরু করি।’
তাহের সাইফ মাস্ক তৈরির জন্য সিল্ক, সুতি, পলিয়েস্টার, কৃত্রিম তন্তুসহ ১০ রকমের কাপড় নেন। তাঁদের সামনে মান হিসেবে ছিল সার্জিক্যাল মাস্ক। তাহের সাইফ বলেন, ড্রপলেটস আটকাতে এবং শ্বাসপ্রশ্বাস নেওয়ার ক্ষেত্রে এটি সবচেয়ে কার্যকর।
গবেষণায় গেঞ্জি বা টি-শার্ট তৈরিতে ব্যবহৃত কাপড়ে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া গেল।
সাইফ বলেন, ‘গেঞ্জির কাপড় এক পরত বা স্তর (লেয়ার) ব্যবহার করে দেখলাম, এটি ৪০ শতাংশ ড্রপলেটস আটকাতে পারে। কিন্তু দুই স্তর কাপড় দিলে এটি ৯৮ শতাংশ ড্রপলেটস আটকাতে পারে। সহজে শ্বাসও নেওয়া যায়। সার্জিক্যাল মাস্ক ড্রপলেটস আটকাতে পারে ৯৬ শতাংশ। এটি শুধু একবারই ব্যবহার করা যায়। তিন পরতে গেঞ্জির কাপড় দিলে হাঁচি-কাশির উপাদান আরও বেশি আটকানো যাবে, তবে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে কিছুটা সমস্যা হতে পারে।’

