সবকিছু ঠিকঠাক থাকার পরও অল্পতেই রেগে যাওয়ার অভ্যাস টা গেলোনা তরীর। তবু এটা অন্তত স্বস্তির, যতো দ্রুত রেগে যায় তার চেয়েও দ্রুত গতিতে রাগ পরে যায় মেয়েটার। অভিমান বা রাগ, কোনো কিছুই বেশিক্ষণ মনের মধ্যে পুষে রাখতে পারে না তরী।
হুট করে রেগে গিয়ে নিজের নখ কামড়াতে থাকলো তরী। ত্বরনও দেখাদেখি তাই শুরু করলো। গুণীজনেরা বলেন, রাগান্বিত মূহুর্তে মেয়েদের কপি করলে নাকি দ্রুত তাদের রাগ কমে যায়। ত্বরনও তাই এই সূত্র ধরে তরীর রাগের সমীকরন মেলাবার চেষ্টায় অটল রইলো।
তরী ফোন বের করে চ্যাটিং শুরু করলো, ত্বরনও তাই! তরী এবার কানে হেড ফোন গুঁজে চুপচাপ বসে রইলো, ত্বরনও দেখাদেখি তাই করলো। তরী এবারে রেগে গিয়ে ওর ছেড়ে রাখা চুলগুলো খোপা বেঁধে ফেললো। এবার কি করবে ত্বরন? তার তো লম্বা লম্বা চুল নেই যে বেঁধে ফেলবে।
ত্বরন ব্যাচারা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে দিশেহারা হয়ে উঠল। হঠাৎ তরীর গোলাপি ওড়নার ওপর একটা চুল দেখে ওটা হাতে নিয়ে বলল, ‘ ‘চুলটা সাথে করে নিয়ে যেয়ে কবিরাজকে দিয়ে তাবিজ বানাবো। এই মেয়েটা যেনো আর কখনো আমার সাথে রাগারাগি, ঝগড়াঝাটি না করে এবং সারাজীবন আমাকে ভালোবাসে।’
তরীর রাগ এতেও কমেনি। আড়চোঁখে বাঁকা ভাবে তাকাল ত্বরনের দিকে। যেন চোখের আগুনে ভস্ম করে দিবে এখনই। তরী তাকাতেই সুর টেনে তাবিজ তাবিজ বলে মন্ত্র জপতে লাগলো ত্বরন।
এরপর কি আর রাগ করে থাকা যায়? ভালোবাসার কছে রাগ, অভিমান সবই পরাজিত হয় সবসময়। ত্বরনের চোখে চোখ পড়তেই ফিক করে হেসে দিলো তরী।
কোমর অবধি লম্বা খোলা চুলেই বেশি ভালো লাগে তরীকে। তাই ত্বরন তরীর খোপাটা খুলে দিতে গিয়ে তরীর চুলে একটু টান লাগতেই তরী চিল্লিয়ে বলে উঠলো, ‘হেই ডোন্ট টাচ ইট, আমার দশ হাজার টাকার চুল।’
কিছুদিন আগেই চুল রিবন্ডিং করেছে তরী। অনেক সাধের চুল তার। তাই কেউ ধরলেই যেন আত্মা বের করে নিয়ে যাচ্ছে মনে হয় তরীর। সে প্রিয় মানুষ হলেও ছাড় দিতে রাজী নয় সে।
ত্বরন এবারে তার বিখ্যাত লুচু হাসিটা দিল। যেই হাসিতেই পাগল হয় তরী, হয় ভালোবাসার জন্য উন্মাতাল। ত্বরনকে খেপানোর জন্য লুইচ্চা বলে তরী। সেই লুইচ্চাকে সংক্ষেপে, ভালোবেসে লুচু বলেই ডাকে।
তরীর চোখে চোখ রেখে ত্বরন বলল, “তোমাকে এগারো হাজার টাকা দিবো, সব চুল গুলো আমাকে দিয়ে দাওনা প্লিজ, অনেক গুলো তাবিজ বানাতে পারবো, তাহলে তো আর তুমি কখনো আমাকে ছেড়ে যাবেনা,রাগারাগিও করবেনা………………!!!”
পেপারস লাইফ/গল্প/তিথি রায় পূজা

