গতকাল পেরিয়েছিল একদিন, যেদিন দেশের ক্রিকেটকে খুব সহজেই দেয়া যায় বাড়তি মর্যাদা। যার প্রত্যেকটাই অনেক বেশি মাহাত্ম্যপূর্ণ, অনেক বেশি সম্মানের।
প্রথমটা ১৯৯৮ সালে, পরেরটা ১৯৯৯ সালে আর সবশেষ ২০১৯ সালে। ১৯৯৮ সালের ১৭ মে তারিখে এসেছিল দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম জয়।
এই তারিখেই ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে অভিষেক ঘটেছিল টাইগারদের এবং প্রথমবারের মতো বহুজাতিক কোন টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ও হয়েছিল মে মাসের ১৭ তারিখেই।
১৯৯৭ সালের আইসিসি ট্রফির মাধ্যমেই নিশ্চিত হয়েছিল বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপের টিকিট। বছর দুয়েক বাদে বিশ্বকাপের মূল আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচটি ১৭ মে’তেই খেলেছিল আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দল। যদিও শক্তিশালী নিউজিল্যান্ডের সামনে খুব একটা পাত্তা পায়নি টাইগাররা।
চেমসফোর্ডের কাউন্টি গ্রাউন্ডে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমেছিল বাংলাদেশ। জিওফ অ্যালট, ক্রিস কেয়ার্নস ও গ্যাভিন লারসেনের তোপে ৩৭.৪ ওভারে অলআউট হয়ে যায় মাত্র ১১৬ রানে।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৯ রান করেন এনামুল হক মণি। এছাড়া নাইমুর রহমান দুর্জয় ১৮, আকরাম খান ১৬, হাসিবুল হোসেন শান্ত ১৬ ও আমিনুল বুলবুল করেছিলেন ১৫ রান। এর বাইরে অতিরিক্ত খাত থেকে ১৭ রান আসায় মূলত শতক পার হয় বাংলাদেশের।
জবাবে খুব একটা সহজ ম্যাচ শেষ করতে পারেনি নিউজিল্যান্ড। মাত্র ১১৭ রানের লক্ষ্যেও তাদের খেলতে হয়েছিল ৩৩ ওভার, হারিয়েছিল ৪টি উইকেট।
বিশ্বকাপের অভিষেক ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশ
শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুত, মেহরাব হোসেন অপি, আকরাম খান, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, খালেদ মাসুদ পাইলট, খালেদ মাহমুদ সুজন, নাইমুর রহমান দুর্জয়, মোহাম্মদ রফিক, এনামুল হক মণি, হাসিবুল হোসেন শান্ত এবং মঞ্জুরুল ইসলাম।
১৯৯৯ সালের ১৭ মে জয় না পেলেও, ১৯৯৮ এবং ২০১৯ সালে জয়ের মালা ছিল বাংলাদেশেরই গলায়। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালেরটি তো দেশের ইতিহাসেরই প্রথম জয়ের রেকর্ড।
১৯৯৮ সালের ১৭ মে’তে দলীয় পারফরম্যান্সের সুবাদে হারিয়ে দেয় কেনিয়াকে। হায়দরাবাদের লাল বাহাদুর শাস্ত্রী স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় কেনিয়া। নির্ধারিত ৫০ ওভারের আগেই ২৩৬ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা।
দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন রবি শাহ। এছাড়া হিতেশ মোদি ৪০ ও দীপক চুড়াসামা করেন ৩৬ রান। বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে ৩ উইকেট নেন মোহাম্মদ রফিক। খালেদ মাহমুদ সুজন ও এনামুল হক মণির ঝুলিতে যায় ২টি করে উইকেট।
রান তাড়া করতে নেমে একটি বাজি খেলেন অধিনায়ক আকরাম। সাধারণত লেট মিডলঅর্ডারে খেললেও, ২৩৭ রানের লক্ষ্যে ইনিংস সূচনা করতে পাঠান মোহাম্মদ রফিককে। সঙ্গে ছিলেন নিয়মিত ওপেনার আতহার আলি খান।
ইনিংসের ২৬তম ওভারে আউট হওয়ার ৮৭ বলে ১১ চার ও ১ ছয়ের মারে ৭৭ রান করেন রফিক। উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১৩৭ রান। রফিক আউট হওয়ার পর জয়ের জন্য বাকি ছিল ১৪৪ বলে ১০০ রান।
এ কাজটুকু সারেন অধিনায়ক আকরাম, ওপেনার আতহার, টপঅর্ডার আমিনুল বুলবুলরা। ৯১ বলে ৪৭ রান করেন আতহার। এছাড়া মিনহাজুল আবেদিন নান্নু ১৪, আমিনুল বুলবুল ২২ ও আকরাম খান ৩৯ রান করলে দুই ওভার হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।
বোলিংয়ে ৩ উইকেট নেয়ার পর ব্যাটিংয়েও ম্যাচজয়ী ৭৭ রানের ইনিংস খেলা মোহাম্মদ রফিককে ম্যাচসেরা খেলোয়াড় হিসেবে বেছে নিতে কোন সমস্যাই হয়নি নীতিনির্ধারকদের।
প্রথম জয়ের ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশ
আতহার আলী খান, মোহাম্মদ রফিক, মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, আমিনুল ইসলাম বুলবুল, নাইমুর রহমান দুর্জয়, আকরাম খান, খালেদ মাসুদ পাইলট, খালেদ মাহমুদ সুজন, এনামুল হক মণি, হাসিবুল হোসেন শান্ত এবং মোরশেদ আলি খান।
আজকের তারিখের সবশেষ মাহাত্ম্যপূর্ণ ঘটনা গতবছরের। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোন টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর বিপক্ষে খেলা বহুজাতিক টুর্নামেন্টের শিরোপা জয় হয়েছিল সেদিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে ৫ উইকেটে জিতেছিল বাংলাদেশ।
ডাবলিনের মালাহিড ভিলেজে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। কয়েকদফা বৃষ্টির কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে আসে ২৪ ওভারে। শাই হোপ ৬৪ বলে ৭৪ ও সুনিল অ্যামব্রিস ৭৮ বলে ৬৯ রান করলে ক্যারিবীয়দের ইনিংস থামে ১ উইকেটে ১৫২ রানে।
তবে বৃষ্টি আইনে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দেয়া হয় ২৪ ওভারে ২১০ রানের। কন্ডিশন বিবেচনায় বাংলাদেশের জন্য খুবই কঠিন ছিল সে লক্ষ্য। তবে ত্রাতার ভূমিকায় আবির্ভূত হন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তার ঝড়ো ব্যাটে ৭ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
সেদিন রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। সবমিলিয়ে ২ চার ও ৫ ছয়ের মারে ২৭ বলে ৫২ রান করে নিশ্চিত করেন দলের জয়। এছাড়া সৌম্য সরকার ৪১ বলে ৬৬ ও মুশফিকুর রহীম ২২ বলে ৩৬ রান করেন। ম্যাচসেরার পুরষ্কার জেতেন মোসাদ্দেক।
প্রথম শিরোপা জয়ের ম্যাচে বাংলাদেশ একাদশ
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মুশফিকুর রহীম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোহাম্মদ মিঠুন, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মেহেদি হাসান মিরাজ, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন এবং মোস্তাফিজুর রহমান।

