দেশজুড়ে চলমান করোনা সংক্রমণের মধ্যেই এবার যেন বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়াল ঘূর্ণিঝড় আম্পান। বুধবার নবান্ন থেকে বসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘আম্পানের তাণ্ডবে ধ্বংস হয়ে গেছে বাংলা।’
এসময় তিনি বলেন, ঝড়ের পুরোটাই বাংলার ওপর দিয়ে গেছে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কমপক্ষে ১০-১২ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে।
এদিকে আম্পানের প্রভাবে মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টি শুরু হয় রাজ্যের বিভিন্ন জেলায়। এদিন তা চরম আকার ধারণ করে। সারাদিন বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যায়।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সুন্দরবনে আছড়ে পড়লে পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করে। সন্ধ্যা ৭টা বেজে ২০ মিনিটে কলকাতায় আম্ফানের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৩৩ কিলোমিটার। সোয়া ৮টার পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও, এখনও বিপদ কাটেনি বলে সতর্ক করেছেন মমতা।
মমতা বলেন, ‘ধ্বংসের হাত থেকে উন্নয়নের পথে আবারও সবাইকে শামিল করে একসঙ্গে কাজ করব। দিঘাতে তেমন বেশি হিট করেনি, রাজারহাট, হাসনাবাদ, গোসাবা, সন্দেশখালি, বনগাঁ, বাগদা, হাবড়াসহ চারদিকে সর্বনাশ হয়ে গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অফিসের অর্ধেক ভেঙে গিয়েছে। কয়েক হাজার টাকার ক্ষতি হয়ে গেল, লাখও ছাড়াতে পারে। কত যে বাড়ি, নদীর বাঁধ ভেঙে গেছে, খেত থেকে সব সর্বনাশ হয়ে গেছে। সংখ্যাটা এখনই বলা যাবে না, ১০-১২ জনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি।’
‘বনগাঁ-হাবড়ায় এখনও তাণ্ডব চলছে। নদীমাতৃক রাজ্য আমাদের, সব জায়গা জলে একাকার। ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়ে যারা রিলিফ ক্যাম্পে রয়েছেন, তাদের আগে দেখা আমাদের কর্তব্য।’
গোটা ধ্বংসের চিত্র বুঝতে ১০-১২ দিন সময় লেগে যাবে বলেও জানান তিনি।

