নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মাইক্রোবাসের ধাক্কায় পিকআপের তিনজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (২২ মে) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সানারপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- চাঁদপুর জেলার মতলব থানার রফিকুল ইসলাম। গাইবান্দা জেলার পলাশবাড়ি এলাকার মিন্টু মিয়া ও মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি এলাকার বোরহান উদ্দিন।
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও চারজন। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে আহতদের কারও নাম পরিচয় জানা যায়নি। নিহত ও আহতরা সবাই পিকআপের যাত্রী ছিলেন এবং তারা কাঁচামাল ব্যবসায়ী।
এদিকে দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপ ও মাইক্রোবাসটি পুলিশ জব্দ করলেও চালক পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক।
নিহতদের স্বজনরা জানান, ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কাঁচপুর থেকে সাত-আটজন কাঁচামাল ব্যবসায়ী পিকআপে চড়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকার কাঁচাবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সকাল ৬টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায় দ্রুতগামী একটি মাইক্রোবাস পেছন থেকে পিকআপটিকে ধাক্কা দিলে যাত্রীরা সবাই ছিটকে রাস্তায় পড়ে যান। এ সময় নিয়ন্ত্রণহীন মাইক্রোবাসটির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন। আহত হন চারজন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ পাঠান স্থানীয়রা। দুর্ঘটনায় পিকআপ ও মাইক্রোবাসটি দুমড়ে মুচড়ে যায়।
নিহত রফিকের ভাতিজা সানি এই দুর্ঘটনার জন্য তিনি মহাসড়কে ট্রাফিক ও পুলিশের অবস্থাপনকে দায়ী করেন। তার অভিযোগ, সরকারের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে পুলিশের যোগসাজশে লকডাউনের মধ্যেও সড়ক নিরাপত্তা আইন ভঙ্গ করে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল করছে। যার কারণে এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। তিনি এই দুর্ঘটনার জন্য দোষী মাইক্রোবাস চালককে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানান।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক জানান, মাইক্রোবাস চালককে গ্রেফতার করতে বিভিন্ন স্থানে পুলিশের অভিযান চলছে। শীঘ্রই তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।

