দিন অন্তে যখন ডুবেছে রবি পশ্চিমা ওই গগনে,
নীল আকাশে চেয়ে দেখি ক্লান্ত পাখিরা ফিরে যায় নীড়ে,
অপলক দৃষ্টিতে আমি চেয়ে আছি তাহাদের দিকে,
মনে মনে ভেবেছি কত না হরেক রকম পাখি আছে এ জগতে।
চারিদিক যেন ছেয়ে যায় আঁধারে ধীরে ধীরে,
দূর হতে ওই আযানের ধ্বনি যেন কানে ভাসে,
চাষিরা দেখি মেঠো পথ ধরে ফেরে লোকালয়ে,
কাঁধে যেন তাহাদের নাঙল খানি দোলে,
রাখাল ছেলেটি বাজিয়ে বাঁশি
ফেরে বলদ গুলোকে নিয়ে,
রাখালের ঐ সুমধুর বাঁশির সুরে,
প্রাণ খানি মোর উতলা হয়ে ওঠে।
টিপ টিপ করে জ্বলেছে প্রদীপ এ ধারে ও ধারে,
মা জ্বালিয়ে দিয়েছে লন্ঠন আঙ্গিনায় মাদুর বিছায়ে,
পড়তে বসেছি মোরা ভাই বোনেরা একসাথে।
আধার হতেই দুষ্ট বাদুড়টি ঝুলেছে পেয়ারা গাছের ডালে,
সন্ধ্যা যেন হয়েছে মুখরিত ঝিঁঝিঁ পোকার অবিরাম ডাকে,
নজর পড়েছে মোর বাড়ির পাশের কাননে,
থই থই অন্ধকার সেথায়,
জোনাকি পোকারা নেভে আর জ্বলে।
মৃদু বাতাস যেন বয়েছে চারিধারে,
কামিনী ফুলের গন্ধ যেন মনকে মাতাল করে।
উনুনে আগুন দিয়ে মা রান্না দিয়েছে চাপিয়ে,
লোকালয় যেন হয়েছে নিঃশব্দ,
নেমেছে নীরবতা চারিধারে।
নিঝুম রাতে আমি তাকিয়ে আছি আকাশের দিকে চেয়ে,
মিটিমিটি করে জ্বলেছে তারা চন্দ্রকে ঘিরে,
জোছনার আলো যেন ছেয়ে গেছে চারিধারে,
অপরূপ এ সৌন্দর্য দেখে মোর আঁখি প্রাণ গেছে ভরে।
পেপার’স লাইফ/কবিতা/শহিদুর রহমান

