করোনাভাইরাসের কারণে থমকে গেছে গোটা বিশ্ব। বিপর্যস্ত বিশ্বের জনজীবন। ভেঙে পড়েছে অর্থনীতি। এরই মধ্যে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে মারা গেছে ৫ লাখ ২৯ হাজারের বেশি মানুষ। আক্রান্ত হয়েছে ১ কোটি ১২ লাখেরস অধিক।
এ ভাইরাসের প্রভাবে ভয়াবহ ধস নেমেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। এক নজরে বিশ্ব অর্থনীতির ভয়াবহ ধসের চিত্র তুলে ধরা হল :
- করোনায় লকডাউনের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী রাষ্ট্র আমেরিকার রপ্তানি বাণিজ্যে চরম ধস নেমেছে। এতে করে মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি ২০০৯ সালের পর সর্বনিম্ন স্তরে নেমে গেছে।
- করোনার কারণে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতেও ভয়াবহ ধস নেমেছে। চলতি বছরের শুরুতে ব্রিটেনের অর্থনীতির যে পতন দেখা যায়, তা দেশটির ৪০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি।
- চলতি বছর (২০২০ সাল) ইউরোপের দেশ গ্রিসের অর্থনীতি ৫.৮ শতাংশ হ্রাস পাবে। ব্যাংক অব গ্রিস সম্প্রতি এই তথ্য জানিয়েছে।
- মহামারির কারণে ভিয়েতনামের জিডিপি রেকর্ড হারে কমেছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধে দেশটির জিডিপি ছিল মাত্র ১.৮১ শতাংশ, যা ২০১১ সালের পর সর্বনিম্ন।
- আইএমএফ’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা সম্প্রতি বলেছেন, করোনাভাইরাসের এই সংকটের কারণে বৈশ্বিক জিডিপি ১ ট্রিলিয়ন ডলার ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
- আইএমএফ’র মতে, বৈশ্বিক এই সংকটের কারণে চলতি বছর বৈশ্বিক অর্থনীতি ৪.৯ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে।
- এশিয়ার দেশ ইন্দোনেশিয়ার বার্ষিক মূল্যস্ফীতি গত জুনে চরমে পৌঁছেছে, যা গত ২০ বছরে সর্বনিম্ন।
- করোনার কারণে গাল্ফ উপসাগরীয় দেশ বাহরাইন, কুয়েত, ইরাক, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতিতেও ব্যাপক ধস নেমেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতে, এ বছর এই দেশগুলোর অর্থনীতি ৭.৬ শতাংশ হারে সংকুচিত হবে।
- করোনাভাইরাসের প্রকোপ থেকে সামলাতে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতিও। দেশটিতে এরই মধ্যে গত ৩০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে। সেই সঙ্গে দেশটিতে করোনাকালে বেকারত্বের হার বেড়েছে ৭.১ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

