‘গরিবের ফাইভ স্টার হোটেলে’ ৮০ টাকায়ও পাওয়া যাচ্ছে না কাস্টমার!


bdnews24 bangla newspaper, bangladesh news 24, bangla newspaper prothom alo, bd news live, indian bangla newspaper, bd news live today, bbc bangla news, bangla breaking news 24

পুরান ঢাকার সদরঘাট-সংলগ্ন আহসান মঞ্জিলের ঠিক বিপরীত পাশে ওয়াইজঘাটের পাঁচটি ভাসমান হোটেলকে অনেকেই ‘গরিবের ফাইভ স্টার হোটেল’ বলে থাকে। ঢাকায় এর চেয়ে সস্তার আবাসিক হোটেল আর নেই।

এই হোটেলের একক কেবিনের ভাড়া ৮০ থেকে ১০০ টাকা মাত্র। দ্বৈত কেবিনের জন্য গুনতে হবে একটু বেশি—১২০ থেকে ১৩০ টাকা।

তবে করোনার আগে ভাসমান হোটেলগুলোতে সিট পাওয়া নিয়ে হৈচৈ হলেও এখন নিয়মিতই ফাঁকা থাকছে অর্ধেকের বেশি রুম। মাত্র ৮০ টাকায়ও থাকার লোক পাওয়া যাচ্ছে না।

জানা যায়, সত্তর দশকে ভাসমান হোটেলগুলো বেশ জমজমাট ছিল। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা হিন্দু ব্যবসায়ীদের অনেকে রাতে থাকার জন্য বেছে নিতেন ভাসমান এই আবাস। অনেকেই রাজধানীর মুসলিম হোটেলগুলোতে খেতেন না, রাত্রি যাপনও করতেন না।

তাঁদের চাহিদাকে সামনে রেখে কিছুসংখ্যক হিন্দু ব্যবসায়ী কাঠের তৈরি পুরনো নৌযানকে কাজে লাগিয়ে এসব ভাসমান হোটেল তৈরি করেন। স্বাধীনতার পরে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটে। ব্যাপক চাহিদা থাকায় মুসলমান ব্যবসায়ীরাও এই ব্যবসায় নামেন। বাড়তে থাকে মুসলমান বোর্ডারও। ফলে বুড়িগঙ্গা পারের ওয়াইজঘাটে ভাসমান হোটেল ব্যবসাটা জমজমাট রূপ নেয়।

কাস্টমারের অপেক্ষায় তীর্থের কাকের মতো অপেক্ষায় থাকেন মালিক-ম্যানেজাররা। সদরঘাটসহ বুড়িগঙ্গার পার ঘেঁষে বসা হকারদের জীবন এখন গতিহীন। করোনা আতঙ্কের আবহে গ্রামের বাড়ি চলে যাওয়ার পর তাদের অনেকেই আর ফেরেনি রাজধানীতে।

ভাসমান হোটেল সংশ্লিষ্টরা বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণকেন্দ্র পুরান ঢাকায় স্থায়ী-অস্থায়ী শ্রমজীবী মানুষের সংখ্যা এখন অনেক কম। পুরান ঢাকায় দেশের বৃহত্তম পাইকারি কাপড়ের বাজার ইসলামপুরে; ফলের আড়ত বাদামতলীতে; কাঁচা ও নিত্যপণ্যের আড়ত শ্যামবাজার, ফরাশগঞ্জ ও রহমতগঞ্জে।

কসমেটিকস, খেলনা, প্লাস্টিক সামগ্রী ও ঘর সাজানোর উপকরণের পাইকারি মোকাম চকবাজার ও মৌলভীবাজারে। ব্যবসা-বাণিজ্যের এই কেন্দ্রগুলোতে লাখ লাখ ভ্রাম্যমাণ শ্রমিক কাজ করেন। যাঁদের স্থায়ীভাবে বাসা বা মেসে থাকার সামর্থ্য নেই। এই ভ্যানচালক, দিনমজুর ও ফুটপাতের অস্থায়ী ব্যবসায়ীরা সারা দিন কাজ করে রাতে কম টাকায় থাকতে ভাসমান হোটেলে আসতেন। এখন এই শ্রমিকদের অনেকেই কাজ হারিয়ে গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন। ফলে এখন ভাসমান হোটেলগুলো আরো ফাঁকা।